Bartaman Logo
২৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডবল ইঞ্জিন হয়েও কাটেনি দুয়োরানি দশা, কেন্দ্রীয় বরাদ্দে পিছনের সারিতেই বাংলা

পালাবদলের পর পশ্চিমবঙ্গে এখন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। তাতেও কাটছে না পশ্চিমবঙ্গের দুয়োরানি দশা! বিগত সরকারের অভিযোগ ছিল, সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাকে বিভিন্ন খাতে ধারাবাহিক আর্থিক বঞ্চনা করে চলেছে।

ডবল ইঞ্জিন হয়েও কাটেনি দুয়োরানি দশা, কেন্দ্রীয় বরাদ্দে পিছনের সারিতেই বাংলা
  • ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পালাবদলের পর পশ্চিমবঙ্গে এখন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। তাতেও কাটছে না পশ্চিমবঙ্গের দুয়োরানি দশা! বিগত সরকারের অভিযোগ ছিল, সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাকে বিভিন্ন খাতে ধারাবাহিক আর্থিক বঞ্চনা করে চলেছে। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই ধরনের অভিযোগ উত্থাপনের আর কোনো জায়গা রইল না বলেই মনে করেছিল সংশ্লিষ্ট মহল। কিন্তু বাস্তব বলছে অন্য কথা! ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষের জন্য বিপর্যয় প্রশমন তহবিলে (স্টেট ডিজাস্টার মিটিগেশন ফান্ড বা এসডিএমএফ) রাজ্যভিত্তিক বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সেখানে পাঁচ বছরে পশ্চিমবঙ্গের জন্য মোট বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ১,৮৩২ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেন্দ্রের অংশ ১,৩৭৪ কোটি এবং রাজ্যের অংশ ৪৫৮ কোটি। বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যাচ্ছে, উপকূলবর্তী রাজ্য হলেও অন্যান্য ‘ডবল ইঞ্জিন’ রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের বরাদ্দ অনেকটাই কম। যথারীতি অনেক বেশি বরাদ্দ পেয়েছে মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশার মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি। সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে মহারাষ্ট্র, ৭,৮৯৫ কোটি টাকা। এই তালিকায় দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে যথাক্রমে উত্তরপ্রদেশের, বিহার, মধ্যপ্রদেশ। ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ পাশাপাশি দুটি উপকূলবর্তী রাজ্য হলেও ২,৩৭৩ কোটি টাকা পাচ্ছে মোহন চরণ মাঝির রাজ্য। এই বরাদ্দ পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় ৫৪১ কোটি টাকা বেশি।  

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গের জন্য কেন এত কম বরাদ্দ? এই ইস্যুতে রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে জোর শোরগোল শুরু হয়েছে বলে খবর। ষোড়শ অর্থ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী অমিত শাহের দপ্তর এই অর্থ বরাদ্দ করেছে। কোন রাজ্য কত টাকা পাবে, তা নির্ভর করে মূলত দু’টি বিষয়ের উপর। প্রথমে দেখা হয় ‘হিস্টোরিক্যাল ডিজাস্টার এক্সপেন্ডিচার’। অর্থাৎ অতীতে সংশ্লিষ্ট রাজ্যে দুর্যোগ মোকাবিলা এবং প্রশমন সংক্রান্ত ব্যয় খতিয়ে দেখা হয়। এরপর দেখা হয় রাজ্যের ‘ডিজাস্টার রিস্ক ইনডেক্স’ বা আরডিআই। এক্ষেত্রে কোনো রাজ্যে দুর্যোগের ঝুঁকি এবং ক্ষতির সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা হয়।  এখানেই প্রশ্ন, তাহলে কি আয়লা, উম-পুন, যশের মতো ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি গত বছরের বন্যাসহ একাধিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ইতিহাসে উপেক্ষা করেই পশ্চিমবঙ্গের জন্য তুলনামূলক কম বরাদ্দের সিদ্ধান্ত হল? বিগত ১৮ থেকে ২০ বছরে হওয়ায প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য নিয়ম মেনে পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রকে। সেসব তথ্য এড়িয়েই এই বরাদ্দ হল কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে প্রশাসনের অন্দরে। প্রসঙ্গত, কোন রাজ্য কোন বছর কত টাকা পাবে, কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে তাও বলে দেওয়া হয়েছে। যেমন, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গ পাবে ৩৩২ কোটি টাকা। ২০৩০-৩১ সালে মিলবে ৪০১ কোটি টাকা। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস, বজ্রপাত, খরা, ভূমিকম্প, তাপপ্রবাহসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলায় পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ হবে এই টাকায়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ