Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভের পরও অনড় ডিভিসি, বাড়িয়ে দেওয়া হল জল ছাড়ার পরিমাণ

মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে ডিভিসির বাঁধ থেকে অনিয়ন্ত্রিত জল ছাড়া নিয়ে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভের পরও অনড় ডিভিসি, বাড়িয়ে দেওয়া হল জল ছাড়ার পরিমাণ
  • ১৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে ডিভিসির বাঁধ থেকে অনিয়ন্ত্রিত জল ছাড়া নিয়ে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৮ জুন থেকে রাজ্যকে না জানিয়েই জল ছাড়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর তোপের পর বন্ধ করা তো দূরের কথা, মাইথন ও পাঞ্চেত থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ আরও বাড়ানো হয়েছে। ডিভিসির দু’টি বাঁধ থেকে ৫৫ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে। পাঞ্চেত থেকে ছাড়া হচ্ছে ৩৭ হাজার কিউসেক। মাইথন থেকে ১৮ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে। পাশাপাশি, বুধবারও শিল্পাঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার জেরে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে বিকেল ৫টায় ৬০ হাজার ১২৫ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে। পরবর্তীকালে জল ছাড়ার পরিমাণ আরও বাড়ানো হতে পারে বলে আধিকারিকদের দাবি। ফলে, খানাকুল সহ নানা এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Advertisement

টানা বৃষ্টিপাত ও দামোদরের বাড়তি জলের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসনও। জেলার বেশিরভাগ জায়গা নদী থেকে অনেকটা উঁচুতে রয়েছে। তবে শহর ও জাতীয় সড়কের জল নিকাশি ব্যবস্থার সমস্যার জন্য মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। বিশেষ করে জাতীয় সড়কের সার্ভিস রোড দিয়ে যাতায়াত করা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। জেলাশাসক বৈঠক করে বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছেন।
পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, কাঁকসা ও অণ্ডালে দামোদর তীরবর্তী কিছু নিচু এলাকা রয়েছে। আমরা সেখানকার প্রশাসনকে সতর্ক করেছি। এছাড়া, আসানসোলের গাড়ুই ও দুর্গাপুরের তামলা নালা শহরের জল নিকাশির মূল ভরসা। দু’টি নিকাশি নালাই সংস্কারের কাজ চলছে।দুঃখের নদীর রূপই যেন ফিরে পাচ্ছে দামোদর। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দামোদরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতে তৈরি করা হয় একাধিক বাঁধ। যার অন্যতম হল মাইথন ও পাঞ্চেত। দীর্ঘদিন ধরে বাঁধগুলিতে পলি জমে জলধারণ ক্ষমতা অনেক কমে গিয়েছে। তাই বাঁধে বাড়তি জল এলেই তা বাংলায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তাতেই প্লাবিত হয়ে যায় পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়া, হুগলি, হাওড়া জেলার একাংশ। যা নিয়ে রাজ্য বারংবার সরব হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মঙ্গলবারও এনিয়ে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরই মঙ্গলবার রাতে ৪০ হাজার কিউসেক থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ বেপরোয়াভাবে বাড়িয়ে করা হয় ৫৫ হাজার কিউসেক।যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, ঝাড়খণ্ডের তেনুঘাট থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া, দামোদরের উচ্চ অববাহিকায় বৃষ্টিপাতের জেরে বাঁধগুলিতে বিপুল জল ঢুকছে। দামোদর ভ্যালি রিজার্ভার রেগুলেটরি কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি সঞ্জীব কুমার বলেন, ধীরে ধীরে জল ছেড়ে রাখা হয়েছে। ফলে আমাদের এখনও পর্যন্ত একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ জল ছাড়তে হয়নি। জল ছাড়া না হলে তো জলস্তর বাঁধের বিপদসীমা পেরিয়ে যাবে।   পাঞ্চেত জলধার থেকে জল ছাড়া হচ্ছে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ