নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ঘরে-বাইরে প্রশ্ন উঠেছে। একবার নয়, বারবার। কিন্তু সময় গড়িয়ে গেলেও চুঁচুড়া পুরসভার ‘ভূতুড়ে’ কর্মীদের চিহ্নিত করা হয়নি। রাজ্যে পালাবদলের পর এবার সেই ‘ভূতুড়ে’ কর্মী নিয়ে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। তাতে পুরকর্তা থেকে কর্মী— সব মহলেইউদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়ক সুবীর নাগ পুরসভায় বৈঠকে গিয়েছিলেন। তিনিও ‘ভূতুড়ে’ কর্মীদের প্রসঙ্গ তোলেন। কিন্তু তারপরেও পুরসভায় কাজ না করলেও কার কার নামে টাকা বরাদ্দ হয়, তার হদিশ নাকি মেলেনি। অন্তত এমনটাই দাবি তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার কর্তাদের।
কাউন্সিলারদের একাংশের দাবি, পুরকর্তারা বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ না করলে যাবতীয় বরাদ্দ বন্ধ হতে পারে। তাতে জনতার দরবারে মুখ তো পুড়বেই, সঙ্গে পরিষেবা সংকটে জনবিক্ষোভ হবে। আবার, পুরকর্মীদের বেতন সহ নানা বিষয়ে পুরসভার অন্দরেই বিক্ষোভের সম্ভাবনা রয়েছে। ভূতুড়ে কর্মীদের চিহ্নিত করা যায়নি বলে মানলেও কোনো পদক্ষেপ হচ্ছে না, সেকথা মানতে চাননি পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমিত্র ঘোষ। তিনি বলেন, ‘ভূতুড়ে’ কর্মীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই সমস্ত দপ্তরকে নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২৯ মে পুরসভার পরবর্তী বৈঠক। সেখানে কড়া পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত হবে। চুঁচুড়ার নবনির্বাচিত বিধায়ক তথা বিজেপির হুগলি জেলার প্রাক্তন সভাপতি সুবীর নাগ বলেন, কাজ না করে মাইনে বা ভাতা নেওয়ার সংস্কৃতি তৃণমূলের অনিয়মের রাজত্বে চালু হয়েছিল। সেসব বরদাস্ত করব না। জনগণের টাকার পাই-পয়সার হিসাব হবে। ইতিমধ্যেই ভূতুড়ে কর্মী নিয়ে আমি পুরসভাকে হুঁশিয়ারি দিয়েছি। পুরকর্তাদের কাজে নজর রাখছি।
চুঁচুড়া পুরসভায় কাজ না করে ভাতা তুলে নেওয়া কর্মীদের কথা প্রথম প্রকাশ্যে আসে তৃণমূল আমলে। প্রবীণ তৃণমূল কাউন্সিলার অমিত রায় চেয়ারম্যান হওয়ার পর ভূতুড়ে কর্মী চিহ্নিত করার কথা বলেছিলেন। সেই সময় পুরসভার আর্থিক সংকটের জেরে ওই প্রসঙ্গ সামনে এসেছিল। কিন্তু সময় গড়ালেও ওই ক্ষেত্রে পদক্ষেপ হয়নি। উলটে পুরসভার হাঁড়ির হালের জেরে কর্মী বিক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে সরে যেতে হয় অমিতবাবুকে। তারপর চুঁচুড়ার তদানীন্তন বিধায়কের ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলার সৌমিত্র ঘোষকে চেয়ারম্যান করা হয়। কিন্তু ওই সমস্যার সমাধান এখনও হয়নি।
রাজ্যে পালাবদলের পর এবার এই ইস্যুতে পুরসভাকে বিঁধতে সচেষ্ট হয়েছে বিজেপি। অভিযোগ, পুরকর্তাদের কোনো হেলদোল নেই। আসন্ন বিপদ থেকে জনতার ক্ষোভ— কোনো কিছুর কথাই তাঁরা ভাবছেন না। তাতেই পুরসভার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনায় পড়েছেন পুরকর্মীরা।