নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও বাংলায় ‘১০০ দিনের কাজ’ চালু করেনি কেন্দ্রের মোদি সরকার। সাড়ে তিন বছর আগে রাজ্যের ১৯ জেলায় দুর্নীতির যে অভিযোগ এনে টাকা পাঠানো পুরোপুরি বন্ধ করেছিল কেন্দ্র, এখনও সেই যুক্তিই তুলে ধরছেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান থেকে শুরু করে গেরুয়া শিবিরের নেতা-মন্ত্রীরা। কিন্তু বর্তমানে কেন্দ্রের এই যুক্তির সঙ্গে বাস্তবের কি আদৌ কী কোনও মিল আছে? নাকি রাজ্যের শাসক দলের তরফে তোলা ‘রাজনৈতিক কারণে টাকা আটকে রাখার’ অভিযোগই সঠিক? কী বলছে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে আদানপ্রদান বিভিন্ন নথি? সেখানে দেখা যাচ্ছে, দুর্নীতির অভিযোগ মুক্ত হতে রাজ্য সরকার রীতিমতো সক্রিয়তার পরিচয় দিয়েছে। কারণ, দক্ষিণ দিনাজপুর, উত্তর ২৪ পরগনা সহ ১৯ জেলায় অভিযান চালিয়ে ৪ কোটি ৯১ লক্ষ টাকা উদ্ধারের সুপারিশ করেছিল কেন্দ্র। সেই জায়গায় উদ্ধার করা হয়েছে ৫ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা।
রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, ‘একবার ডবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলিতে গিয়ে দেখুন কী অবস্থা! কোটি কোটি টাকা নয়ছয় হচ্ছে। অথচ কেন্দ্র চোখে কাপড় বেঁধে বসে আছে। আর বাংলায় কত সামান্য কারণে সাড়ে তিন বছর ধরে টাকা বন্ধ করে দেওয়া হল। তাও যাতে ওরা আঙুল না তুলতে পারে, তার জন্য ওদের সুপারিশ মেনে টাকা উদ্ধারের কাজ করা হয়। সেখানেই দেখা যাচ্ছে, ওদের সুপারিশের থেকে বেশি টাকা উদ্ধার হয়েছে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, বাংলার মানুষকে ভাতে মেরে রাজনীতি করতে চাইছেন ওঁরা।’
তবে শুধু টাকা উদ্ধারই নয়, এই কাজে অনিয়মের কারণে ৭৮ জন আধিকারিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য। সেই সঙ্গে সোশ্যাল অডিট ও আধার ‘সিডিং’ করা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ‘মনরেগা’ নিয়ে প্রতিটি পদক্ষেপের পরেই কেন্দ্রকে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ (এটিআর) পাঠিয়েছে রাজ্য। শুধুমাত্র এই প্রকল্পের জন্যই ২৪টি এটিআর পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আবাস প্রকল্পের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ‘সুপার ভেরিফিকেশন’ বা নিবিড় যাচাই কর্মসূচির মাধ্যমে পার্মানেন্ট ওয়েটিং লিস্ট থেকে ১৭ লক্ষ ৬৯ হাজারের বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তারপরেও ৩৩ লক্ষ ৪২ হাজার মানুষের বাড়ি তৈরির টাকা দেয়নি কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার টাকাও আটকে রেখেছে কেন্দ্র। ফলে রাজ্যের হিসেব অনুযায়ী এই তিন কেন্দ্রীয় সাহায্যপ্রাপ্ত প্রকল্পে মোট ৭০ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা রাজ্যের পাওনা রয়েছে মোদি সরকারের কাছে।