নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: রামনগরে যুবতীকে নৃশংস খুনের ঘটনায় আট মাস বাদে অভিযুক্তরা ধরা পড়লেও কাটা মুণ্ডের খোঁজ পাচ্ছে না পুলিস। ধৃতদের দেখানো জায়গায় গিয়ে তন্নতন্ন করে খোঁজাখুঁজির পরও মুণ্ডের খোঁজ নেই। সম্ভবত শিয়াল কিংবা কুকুরে খেয়েছে বলে অনুমান। তবে, খুনের ঘটনায় মৃতের পরিচিতি মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। সেইজন্য ওই যুবতী খুনের ঘটনায় পুলিস ডিএনএ পরীক্ষার রাস্তায় হাঁটছে। ওই যুবতীর বাড়ি কলকাতায়। রামনগর থানার পুলিস পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। ওই খুনের ঘটনায় দীঘার ‘সাইকো কিলার’ হিসেবে পরিচিত আনসারুল শাহ ও তার টিমের আর এক সদস্য মুস্তাকিন শাহকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। দু’জনের বাড়ি দীঘা থানার রতনপুর গ্রামে।
জানা গিয়েছে, আনসারুল দীঘায় পুরুষ দেহ ব্যবসায়ী সাপ্লাই করত। ১৮-২৫ বছর বয়সি যুবকদের নিয়ে একটা টিম গড়েছিল। তারা নানারকম আসামাজিক কাজকর্মে লিপ্ত থাকত। দীঘার বিভিন্ন হোটেলে দেহ ব্যবসায়ী, মাদক সাপ্লাই করা ছিল প্রধান কাজ। এনিয়ে ঝামেলার জেরেই খুন বলে অনুমান। ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর রামনগর থানার বসন্তপুরে শ্মশান সংলগ্ন জঙ্গলে এক যুবতীর বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয়। বস্তা খুলতেই হাড়হিম করা দৃশ্য। বস্তার ভিতরে যুবতীর মাথাহীন দেহ ছিল। শরীরে কোনও পোশাক ছিল না। দেহের সঙ্গে বাঁ হাত থাকলেও ডান হাত কাটা ছিল। শরীর থেকে দু’টি পা কেটে আলাদা করা হয়েছিল। দেহ দেখে আঁতকে উঠেছিল পুলিসও। রামনগর-১ ব্লকের বসন্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এনিয়ে একটি এফআইআর করেন। তার ভিত্তিতে পুলিস তদন্ত চালালেও কোনও ক্লু পাচ্ছিল না। যুবতীর মাথাও খুঁজে পাচ্ছিল না। রামনগরে রাজীব দাস নামে আরও এক যুবককে নৃশংস খুনের ঘটনায় গত ২ জুন পুলিস চেন্নাই থেকে আনসারুল শাহকে গ্রেপ্তার করে। জেরায় আনসারুল জানায়, রাজীবের পাশাপাশি গত বছর অক্টোবর মাসে যুবতী খুনের ঘটনাতেও সে জড়িত।
রামনগর থানার পুলিস জানিয়েছে, গত বছর অক্টোবর মাসে ওই যুবতীকে খুনের ঘটনায় আনসারুল ও মুস্তাকিন, দু’জনেই জড়িত ছিল। তাদের ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু, কাটা মুণ্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। যুবতীর পরিচয়ও জানা গিয়েছে। আপাতত ডিএনএ টেস্টই ভরসা।
ধড় ও মুণ্ড আলাদা করে পর পর দু’টি খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত আনসারুলের সর্বোচ্চ সাজার লক্ষ্যে বাছাই করা আইনজীবী নিয়োগ করেছে ভবানী ভবন। ওই মামলায় স্পেশাল পিপি হিসেবে বিভাস চট্টোপাধ্যায়কে নিযুক্ত করেছেন ডিআইজি (লিগ্যাল)। তাঁকে সহযোগিতা করার জন্য শান্তনু দে মুহুরী নামে আরও একজন আইনজীবীকে নিয়োগ করা হয়েছে। দু’জনের কেউই পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা নন। অভিযুক্তদের হেফাজতে রেখে দ্রুত চার্জশিট পেশ করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে জেলা পুলিস।
পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বলেন, সাত মাসের ব্যবধানে দু’টি নৃশংস খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত আনসারুল। দু’টি ঘটনাতেই ধড় ও মুণ্ড পৃথক করা হয়েছে। হেফাজতে থাকাকালীন চার্জশিট জমা দিয়ে দ্রুত বিচারের জন্য আমাদের টিম কাজ করছে। রামনগরে যুবতীকে নৃশংস খুনের ঘটনায় ঘটনাস্থলে ধৃতদের নিয়ে তদন্তে পুলিস। নিজস্ব চিত্র