আইএফএ শিল্ড। নামের মধ্যেই ঐতিহ্য। ১৮৯৩ সালে পথ চলা শুরু হয়েছিল এই প্রতিযোগিতার। ১৯১১ সালে ইস্ট ইয়র্কশায়ারকে হারিয়ে প্রথম ভারতীয় দল হিসেবে শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হয় মোহন বাগান। তবে সবচেয়ে বেশিবার এই খেতাব ঘরে তুলেছে ইস্ট বেঙ্গল (২৯)। শিল্ড ঘিরে ময়দানে রাশি রাশি নস্টালজিয়া। আর তা নিয়েই কলম ধরলেন মোহন বাগানের প্রাক্তন মিডফিল্ড জেনারেল।
সত্যজিৎ চট্টোপাধ্যায়: ম্যাচের আগে নায়িমদা কখনও ফোন করতেন না। ব্যতিক্রম সেদিন। সাতসকালেই কোচের ফোন পেয়ে বেশ অবাক। তারপর দল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা। নায়িমদার গলায় বেশ উদ্বেগ। প্রতিপক্ষ পাখতাকোর প্রচণ্ড শক্তিশালী। উজবেকিস্তান জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলার স্কোয়াডে রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, আইএফএ শিল্ডে সেবার ঝড় তুলেছিল কাসিমভরা। দ্রুতগতির সঙ্গে পাওয়ার ফুটবল সামলানো বেশ কঠিন। দুর্ধর্ষ উজবেকদের আটকানোর রাস্তা খুঁজতে হয়তো বিনিদ্র রাত কাটিয়েছিলেন নায়িমদা।
১৯৯৩ সালের আইএফএ শিল্ড। আইএফএ’র আমন্ত্রণে খেলতে আসে পাখতাকোর ও পাভলোদার। যাই হোক, মোহন বাগান মাঠে শিল্ড সেমি-ফাইনাল। বডি অ্যাডভান্টেজ কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখছিল পাখতাকোর। নায়িমদার সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত হয়, কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে হবে। নিজেদের ডিফেন্সিভ থার্ডে বড় চেহারার ফুটবলার প্রয়োজন। যাতে সহজে প্রতিপক্ষ জায়গা না পায়। সেদিন মোহন বাগানের প্রথম একাদশ দিব্যি মনে আছে। গোলরক্ষক শান্তি মজুমদার। ব্যাক ফোরে দেবাশিস, অমিত ভদ্র, সত্যব্রত ও শেখ সিকান্দর। মাঝমাঠে সত্যেন, ক্রিস্টোফারের সঙ্গী আমি। আপফ্রন্টে বিজয়ন, বার্নার্ড ও চিবুজোর। বানার্ড আদতে ডিফেন্ডার। দলের প্রয়োজনে সেদিন ওকে স্ট্রাইকারে নামান নায়িমদা। দ্রুত গতিতে কাউন্টার অ্যাটাকই ছিল প্রধান অস্ত্র। বিপক্ষ চাপ বাড়ালে টোটকা ছিল ৪-৫-১ ফর্মেশন। আলাদা করে সমর্থকদের কথাও বলতে হবে। সেদিন দ্বাদশ ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েছিল দর্শকঠাসা গ্যালারি। গোল না পেয়ে এক সময় মেজাজ হারাতে শুরু করে পাখতাকোর। প্রায় ১০ মিনিট বন্ধ থাকার পর ফের খেলা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত টাই-ব্রেকারে জিতে ফাইনালে পৌঁছয় প্রতিপক্ষ। বিজয়ন, ক্রিস্টোফার ও খালেকের শট পোস্টে প্রতিহত হয়। হারলেও সেদিন দর্শকদের মন জিতেছিল মোহন বাগান। সবুজ-মেরুন জার্সির লড়াইকে কুর্নিশ জানান সমর্থকরা। লাক ফ্যাক্টর সঙ্গে থাকলে প্রবল প্রতিপক্ষকে বশ মানানো অসম্ভব ছিল না। বুটজোড়া তুলে রাখার এত বছর পরেও তাই আপশোস থেকেই যায়।