Bartaman Logo
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ম্যাচ হেরেও ‘দাদা’র দল পায় তিন পয়েন্ট

গড়াপেটা ময়দানের পুরোনো রোগ। চোখের পলকে বদলে যায় সমীকরণ। বটতলার আলো-আঁধারিতে ফিসফাস। পয়েন্ট দেওয়া-নেওয়ার খেলা দানা বাঁধে। মোবাইল ফোন কিংবা নেটযুগের আগেও নিখুঁত অঙ্কে চলত অপারেশন। কেমন ছিল সেসব দিন? এই নিয়েই বর্তমানের অন্তর্তদন্ত।

ম্যাচ হেরেও ‘দাদা’র দল পায় তিন পয়েন্ট
  • ১২ নভেম্বর, ২০২৫ ১৬:১১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ধর্মতলার এক অভিজাত হোটলের পাশের গলিতে ছোট্ট অফিস। নেমপ্লেটে লেখা তাঁর ভালো নাম। সাক্ষাৎকারী বেচারা সেই তা জন্মেও শোনেননি। বিভ্রান্তি কাটাতে এবার আসরে নামলেন খোদ অফিস কর্ণধার। সাদর আপ্যায়ন, ‘আরে বাইরে দাঁড়িয়ে কেন গো? বসতে আজ্ঞা হোক।’ সৌজন্য, মিষ্টিকথায় খামতি নেই। আসলে গড়াপেটার খেলায় এটাই তাঁর নিনজা টেকনিক। ফিক্সিংয়ের বেয়াড়া অফারে অবাধ্য কর্তাও শেষ পর্যন্ত সুরে সুর মেলাতে বাধ্য হতেন। দুপুর গড়াতেই দাদা মাঠমুখী। হাওড়া ইউনিয়ন গ্যালারির টংয়ে দেখা যায় প্রায়শই। সন্ধ্যায় তাঁর ঠিকানা মুর অ্যাভিনিউয়ের ক্লাব তাঁবু। ঘনিষ্ঠরা বলেন, যন্তরমন্তরে বসে মগজ ধোলাই করতেন তিনি। 

Advertisement

ডক্টর জেকিল অ্যান্ড মিস্টার হাইডের গল্প নিশ্চয়ই শুনেছেন। ‘..দা’ সম্পর্কে এটাই ময়দানের মূল্যায়ণ। বেশ কিছু ফুটবলারের গডফাদার। অসীম বিশ্বাস যেমন। অশোকনগরের স্থানীয় টুর্নামেন্ট থেকে বেছে এনেছিলেন প্রতিশ্রুতিসম্পন্ন স্ট্রাইকারকে। এমনকী চন্দন, মেহতাব, শ্রীকান্ত দত্তর মতো অসংখ্য মুখকে মঞ্চ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মুদ্রার ওপাশে? সন্ধ্যা ঘনাতেই দাদার অন্য রূপ। গড়াপেটাকে প্রায় কুটির শিল্প বানিয়ে ফেলেছিলেন। একটি ম্যাচের বিরতিতে ২-০ গোলে এগিয়ে প্রতিপক্ষ। ম্যানেজ করতে বিরতিতে খানিক গুজগুজ ফুসফুস। তারপর? ঘরোয়া লিগে তখন অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলার খেলানো বাধ্যতামূলক। খেলা ভাঙার মিনিট দুয়েক আগে নিঃশব্দে যুব ফুটবলারকে তুলে নিল প্রতিপক্ষ। সেদিন সন্ধ্যায় আইএফএ’তে প্রতিবাদ জমা দেয় মুর অ্যাভিনিউয়ের ক্লাব। ম্যাচ হারলেও পুরো পয়েন্ট তাদের পকেটে। এখানেই শেষ নয়। ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ক্লাব অবনমনে লড়ছে। ম্যাচের দিন শোনা গেল, দাদার দলের ৭ ফুটবলার গুরুতর অসুস্থ। কার্যত শয্যাশায়ী। ম্যাচ হেরে বন্ধুকৃত্য সম্পন্ন করলেন দাদা। গল্পের শেষ প্যারাগ্রাফ আরও মজাদার। পরের দিন খেপের মাঠে চুটিয়ে খেললেন শয্যাশায়ী ৭ ফুটবলার। সায়েন্টিফিক গড়াপেটার উদাহরণ। দাদাকে বশ মানায় সাধ্য কার? পিরামিডের চূড়ার মতো ধাপে ধাপে উত্তরণ তাঁর।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ