সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনে যাত্রী পরিষেবা নিয়ে নিত্য যাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের প্রচুর ক্ষোভ ও অভিযোগ রয়েছে। তারপরেও রেল নিজের মতোই কাজ করে চলেছে বলে বিভিন্ন সংগঠনের অভিযোগ। অভিযোগের প্রমাণ হিসাবে রেলের নিজের দেওয়া খতিয়ানে নানান তথ্য উঠে এসেছে। সদ্য সমাপ্ত হওয়া ২০২৪ -’২৫ আর্থিক বছরে আদ্রা ডিভিশন পণ্য পরিবহন করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। গত আর্থিক বছরের চেয়ে এবছর আয় বেড়েছে। রেলের পণ্য পরিবহনের লক্ষ্যমাত্রা ছাপিয়ে গিয়েছে। আদ্রা ডিভিশনের ডিআরএম সুমিত নারুলা বলেন, রেলকর্মীদের সকলের প্রচেষ্টায় এই সাফল্য এসেছে।
রেলের দেওয়া তথ্য অনুসারে, রেলের তরফে সদ্য সমাপ্ত (২০২৪ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত) আর্থিক বছরে আদ্রা ডিভিশন ২ কোটি ৮৭ লক্ষ টন পণ্য পরিবহনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল। অথচ সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাপিয়ে ২ কোটি ৯০ লক্ষ ৭০ হাজার পণ্য পরিবহন করেছে। ২০২৩ -'২৪ আর্থিক বছরে তুলনায় এবার ৪ শতাংশ বেশি পন্য পরিবহন করা হয়েছে। সমাপ্ত হওয়া আর্থিক বছরে ৩১ মার্চ পর্যন্ত আদ্রা ডিভিশন ৩৪৫৭ টি ওয়াগনে পণ্য পরিবহন করা হয়েছে। যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৩৫.৬ টি রেকে পণ্য পরিবহন করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় ১.৭ শতাংশ বেশি পণ্য পরিবহন হয়েছে। যার ফলে আদ্রা ডিভিশনের হাতে ৩২৯১.০৮ কোটি টাকা আয় হয়েছে। হিসাব অনুসারে আগের আর্থিক বছর তুলনায় ৬.৭ শতাংশ বেশি আয় হয়েছে। মূলত কয়লা, সিমেন্ট পরিবহনে মিলেছে সাফল্য। চলতি বছরের মার্চ মাসে আদ্রা ডিভিশন ৩৪৫৭টি ওয়াগনে কয়লা ও সিমেন্ট পরিবহন করেছে রেল। এককভাবে কোনও একটি নির্দিষ্ট মাসের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ রেকর্ড। রেলের দাবি, আদ্রা ডিভিশনের এটি সর্বকালীন রেকর্ড।
শুধুমাত্র পণ্য পরিবহন নয় যাত্রী পরিবহন করেও আদ্রা ডিভিশনের রেলের আয় বেড়েছে। সমাপ্ত হওয়া আর্থিক বছরে যাত্রী পরিবহন করে আদ্রা ডিভিশন ১৯৬.৪৬ কোটি টাকা আয় করেছে। গত বছরের তুলনায় আয় ৫.১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া রেলের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে মোট ৩৭ কোটি টাকা আয় হয়েছে।
আদ্রা ডিভিশন সমাপ্ত হওয়া আর্থিক বছরে সর্বমোট ৩৫৩০ কোটি টাকা আয় করেছে। গত বছরের তুলনায় আয় ৬.৮৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ট্রাফিক ব্লক নিয়ে আদ্রা ডিভিশন সাফল্যের দাবি করেছে। রেলের দাবি, মোট ২৫৭৫ ঘন্টা ট্রাফিক ব্লক নিয়ে কাজ করা হয়েছে।
রেলের বিরুদ্ধে একাধিক সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আদ্রা ডিভিশন প্যাসেঞ্জার অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিটির সহ -সম্পাদক অমিত বাউরি বলেন, রেলের পরিসংখ্যান অনুসারে একটি কথা পরিষ্কার প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালানো বন্ধ রেখে পণ্য পরিবহন গাড়িকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রেল নিজেই জানিয়েছে, সারা বছরে ২৫৭৫ ঘন্টা ট্রাফিক ব্লক নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ তাতেই পরিষ্কার হয় বছরভর কত প্যাসেঞ্জার, মেমু বাতিল করে যাত্রীদের চূড়ান্ত ভোগান্তিতে ফেলেছে। নিত্য যাত্রীদের মধ্যে সুধীর দত্ত, কল্পনা মান্ডি বলেন, আদ্রা ডিভিশনে কোভিডের পর থেকে লোকাল ট্রেন পরিষেবা একেবারেই তলানিতে ঠেকেছে। প্রায় দিনই লোকাল ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়।
যদিও রেলের দাবি, আগামী দিন রেল পরিষেবা মসৃণ করার জন্য দ্রুত গতিতে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হচ্ছে। তার প্রভাব মানুষ পরবর্তী সময়ে জানতে পারবে।