সংবাদাতা, বিষ্ণুপুর: বাম আমলে পাট্টা পাওয়া প্রায় ৬০ জন জমির দখল পাননি। নতুন সরকার আসার পর সেই জমির দখল পেতে তাঁরা প্রশাসনের কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন। তার ভিত্তিতে বুধবার বিষ্ণুপুরের বেলশুলিয়ার আগুনকুমারি গ্রামের ফুটবল মাঠে শুনানির আয়োজন করা হয়। বিষ্ণুপুরের বিডিওর নেতৃত্বে ভূমি দপ্তরের আধিকারিকরা বঞ্চিতদের নথি পরীক্ষা করেন। পাশাপাশি ওই জমির বর্তমান দখলদারদেরও শুনানিতে ডাকা হয়। তাঁদেরও নথি পরীক্ষা করা হয়। ওই শুনানিকে কেন্দ্র করে আগুনকুমারির ফুটবল মাঠে বহু মানুষ জড়ো হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, জমির দখল চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতে এলাকায় শুনানির আয়োজন করা হয়। তাতে দু’পক্ষকেই ডাকা হয়। উভয়ের নথি জমা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বর্গা অংশ বাদ দিয়েও বেশ কিছু জমি রয়েছে। আগামী দিনে আইন মেনে সমস্যার নিষ্পত্তি করা হবে।
জমির দখল চাওয়া আবেদনকারীরা বলেন, বাম আমলে আমাদের পাট্টা দেওয়া হয়। তার যাবতীয় নথি আমাদের কাছে রয়েছে। কিন্তু, আমরা জমির দখল পাইনি। গত ১৫ বছরে প্রশাসনকে জানিয়েও লাভ হয়নি। বর্তমানে নতুন সরকার এসেছে। তাই এই সরকারের কাছে জমির দখল চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতে এদিন শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। এদিন সমস্ত নথি জমা করেছি।
অপরপক্ষের বক্তব্য, আমরা পূর্বপুরুষ ধরে প্রায় ২৮জন বাসিন্দা জমিতে চাষবাস করে আসছি। আমাদের হাতে বর্গা রেকর্ড রয়েছে। এখন শুনছি, ওই জমি নাকি পাট্টা দেওয়া হয়েছে। এদিন শুনানিতে আমাদের নথি জমা দিয়েছি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগুনকুমারী গ্রামের শেষ প্রান্তে কোনো এক সময় রাজাদের জমি ছিল। ওই জমি এলাকার বাসিন্দারা চাষবাস করছিলেন। পরবর্তীকালে তাঁরা বর্গা রেকর্ড করিয়ে নেন। এদিকে বাম আমলে প্রায় ৪০একর জমি খাস বলে চিহ্নিত করা হয়। ওই জমি এলাকার প্রায় ৬০জনকে পাট্টা দেওয়া হয়। ফলে জমি দখল নিয়ে সমস্যা থেকেই যায়। বর্গাদারদের অধীনেই ওই জমির দখল রয়েছে। পাট্টাপ্রাপকরা বঞ্চিত রয়েছেন। সেই সমস্যার সমাধানের জন্য এদিন শুনানি হয়।
বিজেপির বিষ্ণুপুর গ্রামীণ মণ্ডল-২ সভাপতি সঞ্জয় সিং বলেন, হাতে পাট্টার কাগজ থাকলেও তাঁরা এতবছর ধরে জমির দখল পাননি। তাঁরা আমাদের জানিয়েছিলেন। সেইমতো প্রশাসনিক উদ্যোগে বহু বছরের ওই সমস্যার বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য শুনানির আয়োজন করা হয়েছে। আমরা চাই, বঞ্চিতরা আইন মেনে তাঁদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পান। -নিজস্ব চিত্র