অম্বরীশ চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: ঝুঁকে পড়েছে শরীর। চোখ বন্ধ। মুখে বেদনার ছাপ। স্পষ্ট স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা। কান্তিরাভা, ফাতোরদার পর এবার যুবভারতীতেও ব্যর্থতা সঙ্গী সুনীল ছেত্রীদের। খেতাবি লড়াইয়ে আরও একবার মোহন বাগানকে হারাতে পারল না বেঙ্গালুরু এফসি। সবুজ-মেরুন আবিরে চাপা পড়ল নীল পতাকা। শুরুতে এগিয়ে গিয়েও শেষ রক্ষা করতে ব্যর্থ তারা। ১-২ গোলে হারের পর সেই হতাশাই ঝরে পড়ছিল গুরপ্রীত সিংয়ের শরীরী ভাষায়। পরাজয়ের ধাক্কায় যেন বাকরুদ্ধ তাঁরা। গলা থেকে আওয়াজ বের হতেই চাইছে না। কান্নাভেজা গলায় বেঙ্গালুরু অধিনায়ক সুনীল বললেন, ‘ভালো খেলে হেরেছি। প্রথমার্ধ আমাদের ছিল। কিন্তু ভাগ্য আমাদের সহায় ছিল না। ফুটবলে এমন হয়।’
ফেভারিটের তকমা নিয়েই ফাইনালে নেমেছিল মোহন বাগান। কিন্তু ম্যাচের শুরু থেকে বেঙ্গালুরুর মাঝমাঠের কাছে বারবার সাদামাটা দেখায় আপুইয়াদের। বিশেষ করে নোগুয়েরা তো সারা মাঠ ছুটে খেলা পরিচালনা করলেন। লক্ষ্যভেদেও প্রাথমিক সাফল্য বেঙ্গালুরুরই ছিল। উইলিয়ামসের সেন্টার থেকে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যান সুনীলরা। তবু প্রতিপক্ষ যে মোহন বাগান! একাধিক ম্যাচ উইনারে শক্তিশালী। রাতের যুবভারতীতে সেকথাই শোনা গেল বেঙ্গালুরু কোচ জেরার্ড জারাগোজার গলায়। তাঁর মন্তব্য, ‘মোহন বাগানের মতো শক্তিশালী দলকে থামানো খুব কঠিন। অতিরিক্ত সময়েই টেক্কা দিল ওরা। তবে নিশ্চিত পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয়েছি।’
খেলার আগে সুনীলের নাম ঘোষণা হতেই গর্জে উঠেছিল গ্যালারি। এই শহরের সঙ্গে তাঁর আত্মিক যোগ। সুনীল যে কলকাতার জামাই। কেরিয়ার শুরুও করেছিলেন মোহন বাগান থেকেই। কিন্তু এদিন শুরুতে ছটফটে থাকলেও ক্রমশ ম্লান তিনি। সুব্রত ভট্টাচার্যের জামাইয়ের আক্ষেপ, ‘পরিকল্পনামাফিক খেলতে পারিনি। সুযোগগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মনসংযোগ হারিয়েছি। তারই খেসারত দিতে হল।’ সুনীলের সুরেই গলা মেলালেন নোগুয়েরা। তাঁর সংযোজন ‘সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি।’
গ্যালারিতে উপস্থিত গুটিকয় বেঙ্গালুরু সমর্থকের গলাতেও সেই হতাশা। এক বেসরকারি সংস্থার কর্মী সচ্চিদানন্দ আইয়ার ভাঙা হিন্দিতে বললেন, ‘অফিস ছুটি নেওয়া সার্থক হল না। ম্যাচটা জিতলে শান্তি পেতাম। কিন্তু মোহন বাগানকে হারানো স্বপ্নই থেকে গেল।’