নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার অনেক আগে থেকে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছিল, প্রশান্ত মহাসাগরের ‘এল নিনো’ পরিস্থিতির কারণে এবার দেশে বর্ষার বৃষ্টি কম হতে পারে। কিন্তু জুন মাসে কম হলেও জুলাইয়ে দেশের বেশিরভাগ অংশে বৃষ্টি অনেকটাই বেড়েছে। আপাতত গোটা দেশে আবহাওয়াগতভাবে বৃষ্টির ঘাটতি নেই। তবে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ফের দেশের বড়ো অংশে বৃষ্টি কম হবে। এর জন্য ‘এল নিনো’ পরিস্থিতিসহ আরও কয়েকটি কারণের কথা বলছে তারা। পশ্চিমবঙ্গে অবশ্য তুলনামূলক বেশি বৃষ্টি হবে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। দেশের যেসব রাজ্যে এখনও পর্যন্ত গড় হারের থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ তার মধ্যে অন্যতম।
পূর্বাভাস যা-ই থাক না কেন, ‘এল নিনো’ দেশের বর্ষার উপর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, ‘এল নিনো’ হলে দেশে বর্ষা কম হতে পারে, এমন একটা আশঙ্কা থাকে। তবে বৃষ্টি খুব কমে যাবে, এমনটাও নিশ্চিত নয়। অনেক স্থানীয় পরিস্থিতি দেশে বর্ষার বৃষ্টির উপর প্রভাব ফেলে। তবে দেশে সার্বিকভাবে এবার কিছুটা কম বৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও হঠাৎ খুব বেশি বৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে।
বঙ্গোপসাগরে জুলাই মাসে তিনটি নিম্নচাপে পূর্ব, মধ্য ও উত্তর ভারতের একাংশে বৃষ্টি বেড়েছে। রাজস্থান, গুজরাত, অসমে নিম্নচাপ-ঘূর্ণাবর্ত এবং শিয়ার জোনের উপস্থিতি দেশের অনেক জায়গায় বৃষ্টি বৃদ্ধির সহায়ক হয়েছে। উত্তর ভারতের অনেক জায়গায় ঘূর্ণাবর্তের ফলে বৃষ্টি বেড়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলছে, আগামী মাসগুলিতে ‘এল নিনো’ আরও শক্তিশালী হবে। আগস্টের বর্ষা নিয়ে আশঙ্কার আরও একটি কারণ ভারত মহাসাগরের দুই প্রান্তের জলের উষ্ণতার পার্থক্য (ডাইপোল) এখন ‘নিউট্রাল’ অবস্থায় আছে। এটি পজিটিভ হলে দেশে বৃষ্টির পক্ষে ইতিবাচক হয়। আপাতত আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর নাগাদ ‘ডাইপোল’ পজিটিভ হতে পারে। আপাতত জুলাই পর্যন্ত দেশে সার্বিকভাবে দীর্ঘকালীন গড়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। অন্তত ২০ শতাংশ কম হলে তবেই আবহাওয়াগতভাবে ঘাটতি ধরা হয়। উত্তর পশ্চিম ভারতে ১২ শতাংশ, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে ৩০ শতাংশ, দক্ষিণে ২৩ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। মধ্য ভারতে গড়ের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র