Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

লাগাতার পুলিশি অভিযান সত্ত্বেও বন্ধ হচ্ছে না বেআইনি মদের ঠেক, জগৎবল্লভপুরে চোলাই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রশাসন

কখনও ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, কখনও আবার পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অবৈধ মদের ঠেকগুলি। চলছে ধারাবাহিক পুলিশি অভিযান। তারপরেও জগৎবল্লভপুরকে কোনওভাবেই চোলাইমুক্ত করতে পারছে না প্রশাসন।

লাগাতার পুলিশি অভিযান সত্ত্বেও  বন্ধ হচ্ছে না বেআইনি মদের ঠেক, জগৎবল্লভপুরে চোলাই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রশাসন
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কখনও ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, কখনও আবার পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অবৈধ মদের ঠেকগুলি। চলছে ধারাবাহিক পুলিশি অভিযান। তারপরেও জগৎবল্লভপুরকে কোনওভাবেই চোলাইমুক্ত করতে পারছে না প্রশাসন। গত কয়েক মাসে জগৎবল্লভপুরে ফের ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে অসংখ্য বেআইনি মদের ঠেক। একইসঙ্গে বেড়েছে চোলাই পাচারও। গ্রামগুলিতে সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সমাজবিরোধীদের আনাগোনা বাড়ছে বলে উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা।

Advertisement

জগৎবল্লভপুরের বড়গাছিয়া, মুন্সিরহাট, পাতিহাল, মাজুর মতো প্রত্যন্ত এলাকায় চোলাইয়ের কারবার দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। উৎপাদন আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা মদের ঠেকগুলিকে কোনওভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। গত বৃহস্পতিবার জগৎবল্লভপুরের ফিঙেগাছিতে আবগারি দপ্তরের কার্যালয় থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে একটি বেআইনি চোলাই মদের ঠেকে হানা দেয় পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় একজনকে। বাজেয়াপ্ত করা হয় প্রায় ২০০ লিটার চোলাই। সেগুলি নষ্ট করে দেওয়া হয়। পরদিনই বড়গাছিয়ার আরেকটি চোলাই মদের ঠেক ভেঙে আগুন লাগিয়ে দেয় পুলিশ। পুড়িয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয় ৫০০ লিটারেরও বেশি চোলাই। গ্রেফতার করা হয় দু’জনকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর শীত এলেই জায়গায় জায়গায় এমন অসংখ্য অবৈধ ঠেক গড়ে ওঠে। গ্রামবাসীদের আপত্তি সত্ত্বেও খুল্লামখুল্লা চলে কারবার। পুলিশ মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে ঠেক ভাঙে ঠিকই, কিন্তু যাদের গ্রেফতার করা হয়, তারা কিছুদিন পর জামিন পেয়ে ফের এই কারবারে নেমে পড়ে। অনেকেই বলেন, ‘এতে পুলিশের একাংশের মদত রয়েছে। মদের ঠেকগুলিতে অনেক সময় জুয়া ও মাদকের আসরও বসে। কলেজ পড়ুয়ারা শামিল হচ্ছে তাতে। সন্ধ্যা নামতেই বাইক নিয়ে বহিরাগতরা ঢুকছে এলাকায়। গ্রামের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’
অবৈধ মদের ঠেকের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চোলাই পাচারের ঘটনাও। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই হুগলির সিঙ্গুর থেকে হাওড়া হয়ে কলকাতায় চোলাই পাচার হচ্ছে। পাচারের বড় রুট হাওড়ার জগৎবল্লভপুর। হুগলির চণ্ডীতলা, মানিকপুর সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে চোলাই ঢুকছে এখানে। অনেক সময় সরাসরি পাচারের ঝুঁকি না নিয়ে জগৎবল্লভপুরের বিভিন্ন গোপন ডেরায় লুকিয়ে রাখা হয় সেগুলি। সেখান থেকেও স্থানীয় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে বেআইনি মদ। হাওড়া গ্রামীণ পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘বেআইনি মদের ঠেক ভাঙতে লাগাতার অভিযান চালানো হচ্ছে। আবগারি দপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে হাওড়া-হুগলি জেলার সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি 
বাড়ানো হয়েছে।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ