নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: মহকুমা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের পর শোকজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মাটিগাড়া-২ অঞ্চল সভাপতি ব্রজকান্ত বর্মন। তাঁর দাবি, দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ করিনি। দলের শক্তিবৃদ্ধি করার উপহার হিসাবে পেলাম ‘শোকজ’ চিঠি। এদিকে, সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতের রাজনীতিতে ‘চেয়ার’ দখলের লড়াই নতুন নয়। রাজ্যে পালাবদলের পর এবং বিগত বামফ্রন্ট জমানায় পঞ্চায়েতটিতে প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এসেছিল। এনিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, রাজনীতির রং পাল্টালেও এখানে ইতিহাসের ধারা পাল্টায়নি।
মাটিগাড়া-২ পঞ্চায়েতে দলীয় প্রধানের বিরুদ্ধে অনেকদিন ধরেই ক্ষুব্ধ তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যরা। দলের জেলা নেতারা বহুবার চেষ্টা করেও বিক্ষুব্ধদের রুখতে পারেননি। বিক্ষুব্ধরা প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশের পর মহকুমা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ও দলের অঞ্চল সভাপতিকে শোকজ করে তৃণমূল। রবিবার মহকুমা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের দাবি, তিনি দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ করেননি। মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাঁকে শোকজ করা হয়েছে।
সোমবার তৃণমূলের মাটিগাড়া-২ অঞ্চল কমিটির সভাপতিও একই কথা বলেন। তাঁর মন্তব্য, ২০২২ সালে পঞ্চায়েতের ২৫টি আসনের মধ্যে ২৩টি, দু’টি পঞ্চায়েত সমিতি এবং একটি মহকুমা পরিষদের আসন দলকে উপহার দিয়েছি। দলের শক্তিবৃদ্ধি করেছি। প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা রোখার জন্য বহু চেষ্টা করেছি। এতকিছু করার ফল পেলাম। তাঁর অভিযোগ, মিথ্যা অভিযোগ করে শোকজ করা হয়েছে। দলের অঞ্চল সভাপতি ও মহকুমা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ দু’জনেই জানান, আজ, মঙ্গলবার তাঁরা শোকজের জবাব দেবেন।
এনিয়ে ওই দুই নেতা-নেত্রীর অনুগামীরা রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তাঁদের বক্তব্য, এর আগে বাগডোগরা ও খড়িবাড়ি ব্লকে দু’টি পঞ্চায়েতে প্রধানদের বিরুদ্ধে অনাস্থা পেশ হয়েছে। সেই সব ক্ষেত্রে কাউকে শোকজ করেনি দল। কিন্তু, এখানে ওই দুই নেতা-নেত্রীকে বিনা কারণে ‘ভিলেন’ বানানোর চেষ্টা করছেন দলের একাংশ। বিধানসভা ভোটের আগে এতে দলের ক্ষতি হবে।
এদিকে, মাটিগাড়া আছে মাটিগাড়াতেই। এবার প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ানোয় এমন কথা জানান রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাঁদের বক্তব্য, বামফ্রন্ট জমানায় সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন মহকুমা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ প্রিয়াঙ্কার বাবা নান্টু বিশ্বাস। বামফ্রন্ট জমানায় তিনি সিপিএম ছেড়ে কংগ্রেসে শামিল হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা পেশ হয়েছিল। রাজ্যে পালাবদলের পর নান্টুবাবুর মেয়ে প্রিয়াঙ্কা কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলে তাঁর বিরুদ্ধেও অনাস্থা এসেছিল। সেই ধারা অব্যাহত। এবারও প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এসেছে। কাজেই, রং পাল্টালেও রাজনৈতিক চরিত্র পাল্টায়নি মাটিগাড়ার।