Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সচেতনতা প্রচার সত্ত্বেও কাটোয়ায় বাড়ছে এইচআইভি রোগী, উদ্বেগ

সচেতনতা প্রচার সত্ত্বেও কাটোয়ায় বাড়ছে এইচআইভি রোগী, উদ্বেগ
  • ২৬ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: এডস নিয়ে সচেতনতা প্রচারে খামতি নেই স্বাস্থ্যদপ্তরের। তারপরেও এইচআইভি পজেটিভ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। করোনার সময় থেকেই কাটোয়ায় এইচআইভি পজেটিভ বেড়েছে। পুরুষদের পাশাপাশি আক্রান্ত হচ্ছেন মহিলারাও। তাঁদের ধারাবাহিক চিকিৎসা করানো হচ্ছে। 

Advertisement

কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার তথা মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক বিপ্লব মণ্ডল বলেন, কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়মিত এইচআইভি পরীক্ষা হয়। সেই পরীক্ষা থেকেই ধরা পড়েছে যে, ছ’ বছরে বেড়েছে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা। আমরা তাদের ধারাবাহিক চিকিৎসা করাচ্ছি। 
অনেকেই এখন ভিন রাজ্যে কাজে যাচ্ছেন। সেখানে মাসের পর মাস থাকার পর বাড়ি ফিরছেন। তারপর শরীর খারাপ হলে হাসপাতালে এলেই ধরা পড়ছে এইচআইভি পজেটিভ। অল্প বয়সিরাও আক্রান্ত হচ্ছে। এইচআইভি থেকে বাঁচতে সচেতনতা জরুরি, বলছেন চিকিৎসকরা। তাঁদের পরামর্শ, সচেতন থাকলে রোগ এড়ানো সম্ভব। কিন্তু একটা বড় অংশের মানুষ সে কথা শুনছেন না। 
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ২০১৯ সালে এইচআইভি পজেটিভ কেস ছিল ১৩। তারমধ্যে ৯ জন পুরুষ ও ৪ জন মহিলা। ২০২০ সালে সংখ্যাটা কমে দাঁড়িয়েছিল ৭ জন। তারমধ্যে ৬ জনই পুরুষ ছিলেন। ২০২১ সালে এইচআইভি সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল ৬ জনের শরীরে। ২০২২ সালে আবার বেড়ে দাঁড়ায় ১০। তারমধ্যে ৬ জন পুরুষ ও ৪ জন মহিলা। ২০২৩ সালে কাটোয়ায় ২২ জনের শরীরে মারণ ভাইরাস এইচআইভি পাওয়া যায়। তার মধ্যে ১৪ জন পুরুষ ও ৮ জন মহিলা। আর ২০২৪ সালে কাটোয়ায় ১১ জনের শরীরে এই রোগের ভাইরাস মেলে। তারমধ্যে ১০ জন পুরুষ ও মাত্র ১ জন মহিলার। মঙ্গলকোটে একই বছরে মাত্র ১ অল্প বয়সি ছেলে এইচআইভি পজেটিভ পাওয়া গিয়েছিল। অর্থাৎ ছ’ বছরে কাটোয়ায় ৬৯ জন এইচআইভি পজিটিভ পাওয়া গিয়েছিল। তারমধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৫০, মাত্র ১৯ জন মহিলার শরীরে এই ভাইরাস পাওয়া যায়। প্রত্যেকেই এখন চিকিৎসাধীন। 
এত সংখ্যক মানুষ এই মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসকদের একাংশ যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। তাঁদের মতে, এত প্রচার সত্ত্বেও যদি এইচআইভি পজেটিভ পাওয়া যায়, তাহলে এর থেকে খারাপ আর কিছু হয় না। তবে বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, এখন অবাধ যৌনতা বেড়েছে। এর জন্য ইন্টারনেট পরোক্ষ ভাবে দায়ী। সামাজিক মাধ্যমে বন্ধুত্ব থেকে পরকীয়া বা শরীরী সম্পর্কে চলে যাচ্ছেন অনেকে। কেউ কেউ আবার ভিন রাজ্যে কাজে থাকাকালীন নিষিদ্ধপল্লিতে যাতায়াত করছেন। অনেকেই সেখানে কামানো কাঁচা টাকা রাতভর টাকা ওড়াচ্ছে বারবণিতাদের পিছনে। কিন্তু সচেতনতার অভাবে নিজের শরীরে মারণ ভাইরাস যে ঢুকতে পারে তা ভাবছেন না। কাটোয়ার এসিএমওএইচ আরও জানান, এই রোগ এক্কেবারে সাইলেন্ট কিলার। সেটা সবার জানা উচিত। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ