নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমবায় সমিতি নিজেদের দখলে রাখলেও আসন কমল বামফ্রন্ট প্রভাবিত কর্মচারী সংগঠনের। মঙ্গলবার নির্বাচনে তারা ১০টি আসন দখল করেছে। যা বিগত ৪০ বছরের ইতিহাসে বিরল ঘটনা বলেই স্থানীয়দের দাবি। তবে এই প্রথম সমিতির নির্বাচনে লড়াই করে খাতা খুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তারা এখানকার পাঁচটি আসন দখল করেছে। যদিও গোরুয়া শিবিরের অবস্থা শোচনীয়। তারা এখানকার নির্বাচনে একটিও আসনে পদ্মফুল ফোটাতে পারেনি। সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে জোরচর্চা চলছে।
২০১৬ সালে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সমবায় সমিতির ভোট হয়। ২০২১ সালে সেই নির্বাচিত বোর্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়। এরপর সেখানে আর ভোট হয়নি। দীর্ঘ ন’বছর পর এদিন এখানে নির্বাচন হয়। সংশ্লিষ্ট সমবায়ে মোট আসন ১৫টি। এরমধ্যে তৃণমূল প্রভাবিত শিক্ষক ও কর্মচারী সংগঠন পাঁচটি আসন দখল করেছে। বাকি ১০টি আসনই দখল করেছে বামফ্রন্ট প্রভাবিত কর্মচারী সংগঠন।
ওয়েবকুপার দার্জিলিং জেলা সভাপতি (সমতল) ভাস্কর বিশ্বাস বলেন, বিগত বামফ্রন্ট জমানায় এখানে ভোট হতো না। এই প্রথম এখানে আমরা নির্বাচনে লড়াই করে পাঁচটি আসনে জিতেছি। বাকি আসনগুলিতে সামান্য ভোটে পরাজিত হয়েছি। তা হলেও এই ক’জন সদস্য নিয়েই সমবায় সমিতিতে বামফ্রন্টের মৌরসিপাট্টা রুখব।
প্রসঙ্গত, ১৯৬৭ সালে স্থাপিত হয় এই সমবায় সমিতি। সেই সময় থেকেই সমিতির পরিচালন সমিতির বোর্ড বামফ্রন্টের কব্জায়। সেই সময় এখানে ভোট হতো না। পরিচালন বোর্ডের সদস্য মনোনীত হতো। গত ২০১৬ সালে এখানে নির্বাচনের সূচনা হয়। সেবার এখানে জয়ী হয় বামফ্রন্ট প্রভাবিত সংগঠন। এবারও তারা জয়ী হয়েছে। সিপিএম প্রভাবিত উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতির সম্পাদক সুমন চট্টোপাধ্যায় বলেন, সকলের সহযোগিতায় সমিতির ১০টি আসনে আমাদের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। এবারও সকলকে নিয়ে সমিতি পরিচালনা করা হবে।
বিজেপি প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠন এখানে ১৫টির মধ্যে ১৩টি আসনে লড়াই করে। তারা একটি আসনেও পদ্ম ফুল ফোটাতে পারেনি। এদিকে, তৃণমূল দার্জিলিং জেলা সভানেত্রী (সমতল) পাপিয়া ঘোষ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সমিতির বোর্ড দখল করতে না পারলেও গত কয়েক মাসের মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় ১৪টি সমবায় আমাদের দখলে এসেছে। নিজস্ব চিত্র।