রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন: দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিটেনের অন্যতম মাথাব্যাথার কারণ অভিবাসন। লেবার পার্টির আমলে সংখ্যাটা কমেছে ঠিকই। তবে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দেশ ছাড়ার হিড়িক। ২০২৫ সালে ১ লক্ষ ৭১ হাজার অভিবাসী ব্রিটেনে আসেন। গত ১৩ বছরের তুলনায় সংখ্যাটা অনেকটাই কম। অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্সের (ওএনএস) ডেপুটি ডিরেক্টর সার ক্রফট্স বলেন, ‘অভিবাসনের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে।’ তাতে অবশ্য বিশেষ লাভ হয়নি। কারণ, অভিবাসন কমতেই দেশে দক্ষ শ্রমিকের অভাব দেখা দিচ্ছে। ধাক্কা খাচ্ছে অর্থনীতি, পরিষেবা। যা নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় প্রসাসন।
অভিবাসন কমাতে পেরে আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মামুদের দাবি, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। তারপরেও সমালোচনা বন্ধ হচ্ছে না। শ্যাডো হোম সেক্রেটারি ক্রিস ফিলিপের তোপ, দলে দলে দেশ ছাড়ছেন ব্রিটিশ নাগরিকরা। এর জন্য দায়ী আর্থিক অস্থিরতা।
ওএনএস জানাচ্ছে, গত বছর ৫০ হাজার ভারতীয় পড়ুয়া ব্রিটেন ছেড়েছেন। কর্মীদের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ২১ হাজার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে প্রযুক্তি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতীয়দের উপর নির্ভরশীল ব্রিটিশরা। ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির হার থেকেই তা স্পষ্ট। তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষে ১ লক্ষের বেশি ভারতীয় স্বাস্থ্যকর্মীর ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভিসা পুনর্নবীকরণের অনুমতি পেয়েছেন প্রায় ৯০ হাজার দক্ষ কর্মী। অন্যদিকে গ্র্যাজুয়েট রুটের মেয়াদ বৃদ্ধি করার সুযোগ পেয়েছেন ৭০ হাজারের বেশি ভারতীয়। সংশ্লিষ্ট ভিসা থাকলে ডিগ্রি অর্জনের পরেও ব্রিটেনে কাজের সুযোগ মেলে। তাই ভারতীয়রা দেশ ছাড়ায় চিন্তা বাড়ছে স্টারমারের।
কাজের ক্ষেত্রে মূলত পরিযায়ী শ্রমিকদের উপরে নির্ভরশীল ব্রিটেন। দ্য মাইগ্রেশন অবজারভেটরির দাবি, এই অবস্থায় বেশিদিন অভিবাসনে রাশ টানতে পারবে না প্রশাসন। সেক্ষেত্রে পরিযায়ী শ্রমিকদের সংখ্যা কমাতে নিজের দেশের মানুষকে দক্ষ করে তুলতে হবে। বাড়াতে হবে মজুরি। দেশের প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যালান মিলবার্ন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দক্ষ পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়োগ করেছে বিভিন্ন সংস্থা। এখন সেটা কমে গিয়েছে। চারিদিকে দক্ষ শ্রমিকের অভাব। এই প্রজন্ম সেই সমস্যার সমাধান করতে পারে।’
অভিবাসন-বিরোধী নীতি দিয়ে ইতিমধ্যে ব্রিটেনবাসীর মন জয় করেছে রিফর্ম-ইউকে। এই অবস্থায় অভিবাসন নীতি কড়া করতে বাধ্য হয়েছে লেবার পার্টি। মামুদের কথায়, ‘দেশের জন্য যাঁরা অবদান রাখবেন তাঁদের সবসময় স্বাগত জানানো হবে। তবে সীমান্তের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা অত্যন্ত জরুরি। সেকথা মাথায় রেখে দক্ষতা-ভিত্তিক অভিবাসন
ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।’ এভাবে কি পরিযায়ীদের উপর নির্ভরশীলতা কমবে? উত্তরের অপেক্ষায় ওয়াকিবহাল মহল।