নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বৃহস্পতিবার সকালে বারাসত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গার্লস হস্টেলে আচমকা আগুন লেগে আতঙ্ক ছড়াল। মুহূর্তের মধ্যে ঘর ধোঁয়ায় ভরে যায়। খবর পেয়ে বারাসত দমকল কেন্দ্রের একটি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনায় হতাহতের খবর নেই। তবে, আগুনে ঘরের বেশ কিছু সামগ্রী এবং পড়ুয়াদের প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে যায়। আর নথি হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পড়ুয়ারা।
বারাসত মেডিকেল কলেজের মূল ভবনের পাশেই রয়েছে তিনতলা গার্লস হস্টেল। এদিন সকালে দোতলার একটি ঘর থেকে আগুন ও ধোঁয়া বেরতে দেখা যায়। খবর ছড়াতেই হস্টেলের ভিতরে আতঙ্ক তৈরি হয়। তীব্র ধোঁয়ার কারণে প্রথমে দমকলকর্মীদের ঘরে ঢুকতে সমস্যা হচ্ছিল। পরে ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা ভিতরে ঢুকে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। দমকল আধিকারিক শুভজিৎ লোধ বলেন, আটটা নাগাদ আগুন লাগার খবর আসে। ছাত্রীদের হস্টেলের দোতলায় একটি ঘরে আগুন লেগেছিল। প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে প্রথমে ভিতরে ঢুকতে সমস্যা হচ্ছিল। পরে ঝুঁকি নিয়ে ভিতরে ঢুকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ওই ঘরে তখন কোনো ছাত্রী ছিলেন না। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে। আগুনে পড়ুয়াদের দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রীর পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নথি হারানোর কথা জানতে পেরে কয়েক জন পড়ুয়া কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজের এমএসভিপি অভিজিৎ সাহা বলেন, ক্ষয়ক্ষতি বিশেষ হয়নি। আতঙ্ক ছড়ালেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পড়ুয়াদের প্রয়োজনীয় নথি পুড়েছে। তাঁদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। নিয়ম মেনে সরকারি পদ্ধতিতে মেডিকেল কলেজের তরফে নথিগুলি পুনরায় পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে পড়ুয়াদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর আক্ষেপ, আমার সব শেষ হয়ে গেল। আলমারিতে সমস্ত সার্টিফিকেট ছিল। এখন কি করব বুঝতে পারছি না। প্রসঙ্গত, তারাপীঠ ও কলকাতার নিউমার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের পর বিভিন্ন হস্টেল ও আবাসিক ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই আবহে মেডিকেল কলেজের হস্টেলে আগুনে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিজস্ব চিত্র