দেবজিৎ ঘোষ: মরশুমের প্রথম ডার্বি জয়ের জন্য ইস্ট বেঙ্গলকে অভিনন্দন। নিঃসন্দেহে যোগ্য দল হিসেবেই মোহন বাগানকে টেক্কা দিয়েছে লাল-হলুদ ব্রিগেড। তবে, হারলেও কিয়ান, লেওয়ানদের লড়াই সত্যিই তারিফযোগ্য। সবমিলিয়ে কল্যাণীতে ঘরোয়া লিগের বড় ম্যাচ এককথায় জমজমাট। শিল্পনগরীতে ৫ গোলের থ্রিলার বেশ আকর্ষণীয়। ডার্বি মানেই আলাদা উত্তেজনা, উন্মাদনা। কল্যাণীর হাউসফুল গ্যালারি ঘরোয়া লিগের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। সামাজিক মাধ্যমেও ডার্বির নানা কোলাজ চোখে পড়ল। যুক্তি, তর্ক, তরজায় আবেগের বিস্ফোরণ। এই ধরণের হাইভোল্টেজ ম্যাচ আয়োজন করা বেশ কঠিন। সামান্য খুচরো ইস্যু বড় অশান্তির কারণ হতে পারে। এক্ষেত্রে নির্বিঘ্নে ম্যাচ আয়োজনের জন্য প্রশাসনকেও ধন্যবাদ জানাতে হয়।
কোন অঙ্কে বাজিমাত করল ইস্ট বেঙ্গল? ব্যক্তিগত মত, বিনোর দলের অভিজ্ঞতার কাছেই হারতে হল মোহন বাগানকে। ম্যাচের আগে সিনিয়র দলের ছয় ফুটবলারকে রেজিস্ট্রেশন করায় টিম ম্যানেজমেন্ট। এতেই প্রমাণিত ডার্বিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে টেক্কা দিতে কতটা মরিয়া ছিল লাল-হলুদ থিঙ্কট্যাঙ্ক। দেবজিৎ, লাকরাদের খেলানোয় কোনও অন্যায় নেই। মনে রাখত হবে, মহারণ মানে মর্যাদার যুদ্ধ। এটা মামুলি কোনও ম্যাচ নয়। ডার্বিতে তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিতে চেয়েছিল ইস্ট বেঙ্গল। সেই লক্ষ্যে তারা পুরোপুরি সফল। আলাদা করে প্রভাত লাকরা ও সায়ন ব্যানার্জির প্রশংসা করতে হবে। কল্যাণীর ছেলে প্রভাত চেনা মাঠে অনবদ্য পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে। চিফ কোচ অস্কার ব্রুজোঁর নিশ্চয়ই তা নজর এড়ায়নি। সায়নকে ঘিরেও প্রত্যাশা প্রচুর। প্রথম গোলের ক্ষেত্রে জেসিন জাল কাঁপালেও আসল কারিগর সায়ন। বিরতির আগে ওর লক্ষ্যভেদ দুর্দান্ত পরিকল্পনারই ফসল। ঠান্ডা মাথায় যেভাবে প্রতিপক্ষ গোলকিপারকে কাটিয়ে বল জালে জড়াল, তাতে প্রমাণিত সায়ন আগের চেয়ে অনেক পরিণত। এবার আইএসএলে নিয়মিত দেখতে চাই এই বঙ্গসন্তানকে। প্রাক্তন ফুটবলার হিসেবে পরামর্শ, প্র্যাকটিসের বাইরেও ফুটবল নিয়ে চিন্তাভাবনা করুক সায়ন। চলতি মরশুম ওর কাছে অ্যাসিড টেস্ট। সিনিয়র দলে প্রমোশনের জন্য এটাই আদর্শ সময়।
ঘরোয়া লিগে মোহন বাগানের পারফরম্যান্স আহামরি নয়। শোনা যায়, টিম ম্যানেজমেন্ট লিগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। এই অদ্ভুত মানসিকতা সত্যিই বিস্ময়কর। মোহন বাগানের ঐতিহ্য, লড়াইয়ের ইতিহাস মাথায় রাখা উচিত থিঙ্কট্যাঙ্কের। সবুজ-মেরুন শুধু রং নয়, লক্ষ লক্ষ সমর্থকের আবেগ। মোহন বাগান খেলছে, অথচ টুর্নামেন্টের গুরুত্ব নেই তা হতে পারে না। গতবারও ঘরোয়া লিগের সুপার সিক্সে পৌঁছতে ব্যর্থ ডেগি কার্ডোজের দল। গোয়ানিজ কোচ এরপরেও বহাল তবিয়তে টিকে যাচ্ছেন। মানতেই হবে, ম্যাজিক জানেন ডেগি!