নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলার বাতাসে এখন পুজো-পুজো গন্ধ। তার আগেই ফুটবলপ্রেমী বাঙালির উপরি পাওনা আবেগের ডার্বি। ঐতিহ্যের আইএফএ শিল্ডের শিরোপা নির্ণায়ক ম্যাচে মুখোমুখি মোহন বাগান-ইস্ট বেঙ্গল। চলতি মরশুমে এই নিয়ে চতুর্থ ডার্বি হতে চলেছে যুবভারতীতে। আগের তিনটির মধ্যে ডুরান্ডে একটি করে ম্যাচ দুই দল জিতেছে। আর কলকাতা লিগের ডার্বি ড্র হয়। তাই শারদোৎসবের আগেই মশালের আগুন নিভিয়ে ডার্বি জয়ের পরিসংখ্যানে এগিয়ে থাকতে মরিয়া পালতোলা নৌকা বাহিনী। মঙ্গলবার কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে সবুজ-মেরুনের অনুশীলনেও সেই তাগিদ স্পষ্ট।
আন্তোনিও হাবাসের জাদুকাঠিতে এখন ইস্ট বেঙ্গল বেশ বিপজ্জনক। ডুরান্ড ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছিল লাল-হলুদ দল। মোহন বাগানের কাছে শিল্ডের ফাইনাল বদলার ম্যাচ। কিন্তু সমস্যা হল, গত পাঁচ মরশুমের মতো এগিয়ে থেকে মাঠে নামার জায়গায় নেই পালতোলা নৌকা। চলতি মরশুমের শুরু থেকেই বেশ ফিকে লিস্টনদের পারফরম্যান্স। শিল্ডের সেমি-ফাইনালে পাঞ্জাব এফসি’র বিরুদ্ধে টাই-ব্রেকারে জিতেছে পানোসের দল। তার উপর, চোটের কারণে ফাইনালে পাওয়া যাবে না অজি তারকা ম্যাকলারেনকে। বদলার ম্যাচে তাই জাতীয় দল থেকে ফেরা ফুটবলারদের দিকে তাকিয়ে গ্রিক কোচ। মঙ্গলবার অনুশীলনে শুধুই ফিটনেসের উপর জোর দিলেন পানোস। প্রায় এক ঘণ্টা বিভিন্ন ড্রিলে লিস্টন, মিগুয়েলরা শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অনুশীলন করলেন। আর ম্যাকা রিহ্যাব সারলেন।
মঙ্গলবার যুবভারতীতে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে জাতীয় দলের ম্যাচ রয়েছে। তা খেলে বুধবার দলের সঙ্গে যোগ দেবেন মোহন বাগানের ছয় ফুটবলার। এরপরই চূড়ান্ত প্রস্তুতি সারাবেন গ্রিক কোচ। আসলে তাঁর চাকরিও ঝুলছে সরু সুতোয়। মান বাঁচাতে তাই মনবীর, সাহালদের মাঠে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তবে দেশের হয়ে খেলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডার্বিতে সেরা ছন্দ মেলে ধরা তাঁদের পক্ষে কতটা সম্ভব তা সময়ই বলবে।