নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রাত পোহালেই ডার্বি বারাসতে। আট বছর পর ফুটবলের বড়ো ম্যাচের হাত প্রাণ ফিরছে বারাসত স্টেডিয়ামের সবুজ মাঠের। এই স্টেডিয়াম তথা বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে এটাই প্রথম ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ম্যাচ। ১৬ বছর পর ফ্লাডলাইটের আলোয় ম্যাচ হবে। সোমবারের নৈশ ডার্বির প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। ম্যাচের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে সন্তোষ প্রকাশ করেন আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত। তিনি বলেন, ‘গত বছর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু অনেক সীমাবদ্ধতার কারণে বারাসত স্টেডিয়ামে ডার্বি করাতে পারিনি। এবার যখন যা বলেছি, বিধায়ক সবটাই করে দিয়েছেন। গত আট বছর কোনো খেলা হয়নি এই স্টেডিয়ামে। কোটি কোটি টাকার পরিকাঠামো অবহেলায় নষ্ট হচ্ছিল। তাই কলকাতা বদি দিলে একমাত্র কল্যাণীর মাঠেই ডার্বি আয়োজন করতে হত আইএফএ-কে। অথচ বারাসত ও সংলগ্ন এলাকায় ফুটবলপ্রেমীর অভাব নেই।’
তিনি জানান, পালাবদলের পর রীতিমতো চ্যালেঞ্জ নিয়ে স্টেডিয়ামকে কলকাতা প্রিমিয়ার লিগের উপযোগী করার উদ্যোগ নেন বিধায়ক। আগস্টে এখানে তিনটি লিগ ম্যাচ হয়েছে। তবে ডার্বির জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পরিকাঠামোর অভাব ছিল। ফ্লাডলাইট সংস্কার এবং বিপুল সংখ্যক দর্শক সামলাতে অতিরিক্ত গেট তৈরির কাজ শুরু হয়। সেই কাজও শেষ।
অনির্বাণ জানান, বারাসতের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দুর্বার বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড়ো ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে দর্শক নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হবে না। ডার্বি সফল হলে আগামী দিনে বারাসত স্টেডিয়ামে আইএফএ শিল্ড আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁদের। বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘পুলিশ, প্রশাসন এবং পুরসভা একসঙ্গে কাজ করেছে বলেই বারাসতে ডার্বি সম্ভব হচ্ছে। এটা বারাসতের মানুষের কাছে গর্বের।’ বারাসত পুলিশ জেলার সুপার জে মার্সি বলেন, ‘ম্যাচ সফল করতে বাইরের জেলা থেকেও পুলিশ আনা হবে। শনিবার সন্ধ্যায় বাহিনীর সংখ্যা জানা যাবে। তারপর সমস্ত বিভাগের আধিকারিককের সঙ্গে বৈঠক করে নিরাপত্তার চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হবে।’