নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: অরণ্য সুন্দরী ঝাড়গ্রামে বেড়াতে এসে মুগ্ধ কলকাতায় নিযুক্ত ইতালির ডেপুটি কনস্যুলেট জেনারেল ড্যানিয়েল প্যানফিলো। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, কালীপুজো ঘিরে মানুষের উন্মাদনা ও দেশি খাবারের কথা তিনি তাঁর দেশে গিয়ে বলবেন বলে জানিয়েছেন।
ঝাড়গ্ৰাম রাজবাড়ি জেলার অন্যতম পর্যটনস্থল। কেন্দ্রের পর্যটন মন্ত্রক কিছুদিন আগেই ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িকে বেসিক হেরিটেজের স্বীকৃতি দিয়েছে। ভারতীয় দূতাবাসগুলিতে বিদেশিরা পর্যটনস্থল হিসেবে ঝাড়গ্রামের খোঁজ পাচ্ছেন। ঝাড়গ্রামে বহু বিদেশি পর্যটক বেড়াতে আসছেন। ড্যানিয়েল প্যানফিলো ইতালির রোম শহরের বাসিন্দা। কলকাতার ইতালির কনস্যুলেটে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত। শুক্রবার বিকেলে তিনি ঝাড়গ্রামে আসেন। শহরের তালতলা শশ্মানের কালী মন্দির দর্শন করেন। কালীপুজো উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত ‘জলবাজি’ দেখেন। রাজ্যের বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা, জেলা সভাধিপতি চিন্ময়ী মারাণ্ডি ও শহরের বিশিষ্টদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ঝাড়গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, কালীপুজো ঘিরে সাধারণ মানুষের উন্মাদনা ও জলবাজির প্রদর্শনী দেখে উচ্ছ্বসিত তিনি।
ঝাড়গ্ৰামে এসে মোটা চালের ভাত, শাকভাজা, ডাঁটাচচ্চড়ি, চুনো মাছের ঝোল ও হাঁসের ডিমের স্বাদ তিনি ভুলতে পারছেন না বলে জানান। ড্যানিয়েল এদিন বলেন, ইতালির রোম শহরে বড় হয়েছি। কর্মসূত্রে এখন কলকাতায় আছি। ভ্রমণ ভালো লাগে। তাই এখানে বেড়াতে এসেছিলাম। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, উৎসব ঘিরে মানুষের উন্মাদনা, রাজবাড়ির স্থাপত্য ও এখানকার বাসিন্দাদের আন্তরিকতায় আমি মুগ্ধ। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা ইতালির মানুষ যাতে জানতে পারেন তার চেষ্টা করব।
ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির তরুণ সদস্য বিক্রমাদিত্য মল্লদেব বলেন, ড্যানিয়েল প্যানফিলো রাজবাড়ির গেস্টহাউসে ছিলেন। তালতলা শ্মশানে মন্দির দেখেতে চেয়েছিলেন। সেখানে প্রবেশ করতে পেরে ও ধর্মীয় উদারতার নির্দশন দেখে মুগ্ধ হন। রাতে ওঁর জন্য ইতালীয় খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু পাত পেড়ে স্থানীয় খাবার খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ঝাড়গ্রাম ও ইতালির মধ্যে পর্যটন সেতু গড়ার বিষয়টি উত্থাপন করেছিলাম। রাষ্ট্রীয়স্তরে দু’দেশের পর্যটনের যোগসূত্র গড়া নিয়ে আগ্ৰহ প্রকাশ করেছেন। ঝাড়গ্রাম জেলার পর্যটন সংস্থাগুলির সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।
জেলা সভাধিপতি বলেন, জেলার আদিবাসী সমাজের জীবনযাপন ও তাঁদের লোক সংস্কৃতি নিয়ে উনি জানতে চেয়েছিলেন। ঝাড়গ্রাম জেলার প্রকৃতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তাঁকে মুগ্ধ করেছে বলে জানিয়েছেন। ঝাড়গ্রাম জেলা হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শিবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, এখন বিদেশের পর্যটকরা বেড়াতে আসছেন। কিছুদিন আগে পূর্ব ভারতের পর্যটন সংস্থাগুলির সঙ্গে এখানকার সংস্থাগুলির বৈঠক হয়েছে। পর্যটনের প্রসার ঘটানোই আমাদের লক্ষ্য। বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে আমরা নানা পরিকল্পনা নিচ্ছি।