নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর ও হাওড়া : এসআইআর শুনানিতে ভোগান্তির ছবি অব্যাহত। প্রাক্তন সাংসদ থেকে সেনাকর্মী, চিকিৎসকও ছুটছেন নথি হাতে। ১৯৯০ সাল থেকে ভোট দিচ্ছেন চিকিৎসক সজল বিশ্বাস। বর্তমানে তিনি বাঁকুড়া জেলার ডেপুটি সিএমওএইচ পদে কর্মরত। ২৪ ঘণ্টার নোটিসে মঙ্গলবার তাঁকে আসতে হয়েছে পানিহাটির আগরপাড়া সাবিত্রী মহাজাতি বালিকা বিদ্যাপীঠে এসআইআর শুনানি কেন্দ্রে। শুধু তাই নয়, তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা, দুই চিকিৎসক ভাই সহ পরিবারের ছয় সদস্যকে একইসঙ্গে শুনানি কেন্দ্রে হাজির হতে হয়েছিল। কারণ ২০০২ সালের তালিকায় পরিবারের সদস্যদের নাম ছিল না। কামারহাটির কাউন্সিলার বিমল সাহাও এদিন শুনানিতে হাজির ছিলেন। তাঁরও একই সমস্যা। হাওড়ায় শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন জয়নগরের প্রাক্তন সাংসদও।
এদিন শুনানি কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সজলবাবু। তিনি বলেন, স্বৈরতন্ত্র চলছে। ১৯৯০ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় থেকে ভোট দিচ্ছি। তারপরও চিকিৎসার মতো জরুরি পরিষেবার কাজ ছেড়ে শুনানির লাইনে দাঁড়াতে হল। ৮৬ বছরের বৃদ্ধ বাবা ও মাকে ডেকেছে। অথচ তাঁরা ১৯৭০ সাল থেকে ভোট দিচ্ছে। এটা একপ্রকার তুঘলকি কাণ্ড। শুনানির লাইনে দাঁড়ানো তাঁর চিকিৎসক ভাই কর্নেল তাপস বিশ্বাস বলেন, সেনায় থেকে দেশের সেবা করার পর এভাবে শুনানির লাইনে দাঁড়াতে হবে ভাবতে পারিনি। ভাই স্বপন বিশ্বাস ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক। শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ডিউটি পরিবর্তন করে আমাকে আসতে হয়েছে। এমন পরস্থিতি হবে কল্পনাও করিনি।
অন্যদিকে, এদিনই পানিহাটি পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সোদপুর নবোদয় ইনস্টিটিউটের শুনানি কেন্দ্রে হাজির হওয়া ভোটারদের হিয়ারিংয়ের পর রিসিভ কপি না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদে সরব হন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলার প্রদীপ বড়ুয়া সহ তৃণমূল কর্মীরা। শেষে রিসিভ কপি দিতে বাধ্য হন কমিশনের প্রতিনিধিরা।
অন্যদিকে, কামারহাটি পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বিমল সাহাও শুনানিতে যান। তিনি বেলঘরিয়া ফিডার রোডের রামানন্দ চ্যারিটেবল স্কুলের শুনানি কেন্দ্রে হাজির হন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন বিজেপির বি টিম হয়ে গিয়েছে। বিজেপির অঙ্গুলি হেলনে কমিশন সাধারণ মানুষের উপর চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছে। এর দায় কমিশনকে নিতে হবে।
এদিন, হাওড়ায় এসআইআর শুনানিতে হাজিরা দিয়েছেন এসইউসির বর্ষীয়ান নেতা তথা দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের প্রাক্তন সাংসদ, পেশায় চিকিৎসক তরুণকুমার মণ্ডলকে। বর্তমানে তিনি হাওড়ার শিবপুরের বি গার্ডেনের বাসিন্দা।
মঙ্গলবার দুপুরে শিবপুরের বি গার্ডেন কলেজঘাট রোডে পূর্তদপ্তরের অফিসে উপস্থিত হন তরুণবাবু। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। শুধুমাত্র মায়ের নাম থাকার কারণেই তাঁকে এসআইআরের শুনানিতে ডাকা হয়। শুনানি শেষে তরুণবাবু জানান, ২০০২ সালে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারী ছিলেন এবং কর্মসূত্রে মহারাষ্ট্রে ছিলেন। সেই সময় ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় হাওড়ার বাড়িতে অনুপস্থিত থাকার কারণে তাঁর নাম তালিকাভুক্ত হয়নি বলে তিনি মনে করেন। তবে এখানেই তাঁর প্রশ্ন, যদি ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থেকেও থাকে, তাহলে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কীভাবে তিনি লোকসভার সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেন। তাঁর কথায়, ভোটার তালিকায় নাম ছাড়া সংসদ সদস্য হওয়া আদৌ সম্ভব কি না? সেই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর তিনি শুনানিতে পাননি।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে স্বেচ্ছা অবসর গ্রহণের পর ২০০৯ সালে জয়নগর লোকসভা কেন্দ্র থেকে এসইউসির হয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন তরুণকুমার মণ্ডল। ২০১৪ সাল পর্যন্ত সেই পদে ছিলেন তিনি।