নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: মগরা উচ্চ বিদ্যালয়ের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আর্থিক বছরের শেষেই বাঁকুড়ার স্কুলগুলিতে পড়ে থাকা টাকার হিসেব চাইতে উদ্যোগী হয়েছে জেলা শিক্ষাদপ্তর। দ্রুত এব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাঁকুড়া জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) পীযূষকান্তি বেরা। তথ্য না পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। মগরার ঘটনার পর বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনও স্কুলগুলির উন্নয়নে বরাদ্দকৃত অর্থের হিসেব নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে। শিক্ষাদপ্তরের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের তরফে বিষয়টি নিয়ে আধিকারিকরা তৎপর হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত সাত বছর ধরে বারবার চাওয়া সত্ত্বেও সরকারি বরাদ্দের ৫৪ লক্ষ টাকার হিসেব দিচ্ছে না মগরা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বাঁকুড়া-২ ব্লকের মানকানালি অঞ্চলের ওই স্কুল কার্যত জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা দপ্তরকে থোড়াই কেয়ার করেছে বলে অভিযোগ। হিসেবের জন্য প্রশাসন ও শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিকদের স্কুলে গিয়েও কার্যত খালি হাতে ফিরতে হয়। ঘটনায় জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) তদন্তের নির্দেশ দেন।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) বলেন, মগরা উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ লক্ষ টাকা পড়ে রয়েছে। সেই টাকায় কী কাজ হয়েছে, তার হিসেব আমরা চেয়েও পাইনি। ওই স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে আমরা তৎপর হয়েছি। জেলার অন্যান্য বিদ্যালয়েও টাকা পড়ে রয়েছে কি না, তা জানার জন্য আধিকারিকদের বলা হয়েছে। অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকরা নিজ নিজ এলাকার তথ্য জেলাস্তরে পাঠাবেন। আর্থিক বছর সম্প্রতি শেষ হয়েছে। ফলে পুরনো হিসেব ও রূপায়িত প্রকল্পের ‘ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট’ (ইউসি) স্কুলগুলিকে জমা দিতে হবে। এটা বাধ্যতামূলক।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, সরকারি টাকা দীর্ঘদিন ধরে খরচ না করে স্কুলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ফেলে রাখার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। জমা টাকার সুদের জন্য অনেকে তা করে থাকে বলে আমাদের অনুমান। তবে এভাবে সরকারি টাকা ফেলে রাখা যায় না। আবার খরচ করার পর হিসেব না দেওয়ার ঘটনাও মেনে নেওয়া যায় না। আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি।
মগরা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুকেশ পাত্র বলেন, খরচ না হওয়া সরকারি টাকা স্কুলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে। আমার অসুস্থতার কারণে ব্যাঙ্ক অ্যকাউন্টের তথ্য পেতে দেরি হয়। সেই কারণে শিক্ষাদপ্তরকে সময়ে তা জানানো যায়নি। আমরা তা নিয়ম মেনে জানাব।
প্রশাসন ও শিক্ষাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ স্কুলগুলিতে পৌঁছয়। আবার শিক্ষাদপ্তর সরাসরি জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের কার্যালয়ের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দ করে। ওই টাকায় অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, পুরনো ভবন সংস্কার, সীমানা প্রাচীর, শৌচালয় তৈরি সহ অন্যান্য কাজ হয়ে থাকে। ওই খাতে প্রতি বছর বাঁকুড়া জেলার ৮২৯টি হাই স্কুলের মধ্যে থেকে আসা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কয়েক কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ করা হয়। সেই টাকার হিসেব নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাওয়ার ব্যাপারে এবার শিক্ষাদপ্তর ও প্রশাসন উদ্যোগী হয়েছে।