নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: গোবরডাঙায় এক মহিলার দেহ উদ্ধার হল ঘরের ভিতর খাটের নীচে। মৃতার নাম মিঠু দত্ত (৪৪)। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, খুন হয়েছেন মহিলা। সন্দেহের তির দেওর প্রদীপ দত্তের দিকে। মহিলার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করেছে গোবরডাঙা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মিঠুরা দিল্লিতে বাস করতেন। ১১ বছর আগে তাঁর স্বামী নিখোঁজ হয়ে যান। তখনই দেওরের সঙ্গে গোবরডাঙায় ফিরে আসেন মহিলা। দেওরের সঙ্গে শুরু করেন ‘লিভ-ইন’। পুলিশের অনুমান, সম্পর্কে টানাপোড়েনের জেরে প্রদীপ খুন করেছে তার বউদিকে। মৃতের দুই ছেলে এবং দেওর প্রদীপকে জেরা করেছে পুলিশ। পরে প্রদীপকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গোবরডাঙা পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপাড়ার বাসিন্দা মিঠু দত্ত। তাঁর স্বামী দিলীপ দত্ত এবং দেওর প্রদীপ আগে দিল্লিতে কাজ করতেন। স্বামী নিখোঁজের পর দিল্লি থেকে দুই ছেলেকে নিয়ে গোবরডাঙার সাহাপাড়ায় চলে আসেন মিঠু। দিল্লিতে স্ত্রী ও পরিবার ছেড়ে মিঠুর সঙ্গে গোবরডাঙায় চলে আসেন প্রদীপ। সাহাপাড়ায় একই বাড়িতে থাকতেন তাঁরা। মাঝেমধ্যেই দেওর এবং বউদির সঙ্গে ঝগড়া, অশান্তি বাধত। অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে ফিরে বউদি ও দুই ভাইপোকেও মারধর করত প্রদীপ। সোমবার দুপুর থেকে মিঠুর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। দুই ছেলেও বাড়িতে ছিল না। মঙ্গলবার সকালে তারা বাড়িতে ফিরে মায়ের খোঁজ শুরু করে। একটি ঘরে খাটের নীচে বিছানার চাদরে মোড়া অবস্থায় মায়ের দেহ পড়ে থাকতে দেখে দু’ভাই।
খবর পেয়ে ওসি পিঙ্কি ঘোষের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। মিঠুর মুখ থেঁতলানো ছিল। ফাঁসের দাগ ছিল গলাতেও। শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে বলেই অনুমান পুলিশের। আর মৃত্যু নিশ্চিত করতে মুখে ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। মৃতের ছেলে আদর্শ দত্ত বলেন, কাকা মাকে খুন করেছে। গোবরডাঙা পুরসভার চেয়ারম্যান শঙ্কর দত্ত বলেন, দেওর ও বউদি একই সঙ্গে সংসার করত। তাদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। বারাসত পুলিশ জেলার অতিরিক্ত অতীশ বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।