Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডেঙ্গু রোধ: থানায় পড়ে থাকা বাজেয়াপ্ত গাড়ি নিয়ে সিপিকে চিঠি দেবে পুরসভা

ডেঙ্গু রোধে থানার বাইরে পড়ে থাকা বাজেয়াপ্ত গাড়ি নিয়ে পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেবে কলকাতা পুরসভা। বিস্তারিত পড়ুন।

ডেঙ্গু রোধ: থানায় পড়ে থাকা বাজেয়াপ্ত গাড়ি নিয়ে সিপিকে চিঠি দেবে পুরসভা
  • ১১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারি আবাসন, সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিভিন্ন থানার বাইরে পরিত্যক্ত বা বাজেয়াপ্ত করা গাড়ি পড়ে থাকে। সেসব জায়গায় জল জমলে হয়ে ওঠে ডেঙ্গুবাহক মশার আঁতুড়ঘর। অভিযোগ, এনিয়ে বারবার চিঠি দিলেও সঠিক পদক্ষেপ করে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পুলিশও উদাসীন থাকে। বুধবার কলকাতা পুরসভার প্রশাসক তথা পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডের ডাকা বর্ষা প্রস্তুতির বৈঠকে এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হয়। সিদ্ধান্ত হয়েছে, থানার বাইরে পড়ে থাকা গাড়ি নিয়ে পুলিশ কমিশনারকে ফের চিঠি পাঠাবেন পুর-কমিশনার। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সরকারি আবাসন কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জঞ্জাল-জঙ্গল সাফাইয়ের বিষয়ে সচেতন করা হবে। তারপরেও কথা না শুনলে হবে মোটা টাকা জরিমানা। এদিন বিবেকানন্দ পার্কে কলকাতা পুরসভার উদযাপন কমিউনিটি হলে বর্ষার প্রস্তুতি বৈঠক ডেকেছিলেন কমিশনার তথা প্রশাসক। সেখানেই বর্ষা সংক্রান্ত সমস্যা ও ডেঙ্গু রোধে বিভিন্ন সরকারি বিভাগ এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দক্ষিণ কলকাতায় বহু সরকারি আবাসন রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সঠিকভাবে জঞ্জাল পরিষ্কার হয় না। ফাঁকা জমি জঞ্জালে ভরে রয়েছে। কিন্তু আবাসনের বাসিন্দারা সেগুলি সাফাই করেন না। পুরসভা নোটিস পাঠালে উলটে তাঁরা পুর কর্তৃপক্ষকেই সাফাই করে দেওয়ার অনুরোধ জানান। পুরস্বাস্থ্য বিভাগের তরফে বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করা হলে জঞ্জাল সাফাই বিভাগ জানায়, বিভিন্ন এজেন্সি রয়েছে। পুরসভা তাদের যোগাযোগ নম্বর সরকারি আবাসন কিংবা প্রতিষ্ঠানগুলিকে দিয়ে দেবে। কিন্তু কমিশনারের সামনেই স্বাস্থ্যবিভাগ পালটা বলে, সরকারি আবাসনের লোকজন পেমেন্ট করতে চান না। শুধু সরকারি আবাসন কেন, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের জঙ্গল সাফাইয়ের টাকাও বকেয়া পড়ে রয়েছে। স্মিতা পান্ডে বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠান বা আবাসন টাকা দেবে না, সেটা হয় নাকি! এসব জায়গায় গিয়ে প্রচার করতে হবে। ওঁদের বোঝাতে হবে। তারপরেও উদাসীন থাকলে মোটা টাকা জরিমানা করা হবে। জঞ্জাল সাফাইয়ের খরচ ওঁদেরকেই দিতে হবে।’ 

Advertisement

পাশাপাশি, বিভিন্ন থানার বাইরে বাজেয়াপ্ত করা গাড়িতে জল জমে ডেঙ্গুর মশার লার্ভা জন্মায়। থানার আধিকারিকদের সামনেই বিষয়টি উত্থাপন করেন পুরসভার মুখ্য পতঙ্গবিদ ডঃ দেবাশিস বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘এগুলি স্থানীয় থানাকে নজরে রাখতেই হবে। প্রয়োজনে আপাতত বড়ো ত্রিপল দিয়ে গাড়িগুলি ঢেকে রাখতে হবে, যাতে ভিতরে জল না জমে।’ এ প্রসঙ্গে পুরসভার প্রশাসক জানান, ‘এই বাজেয়াপ্ত করা গাড়িগুলির বিষয়ে পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেব। বরো আধিকারিকরাও স্থানীয় থানার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এই বিষয়ে পদক্ষেপ করবেন।’ এছাড়াও দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলে কোথায় কোথায় জল জমে, সেখানে কোথায় ক’টি অস্থায়ী পাম্প প্রয়োজন—তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ