Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাড়ছে ডেঙ্গু, আক্রান্তের নিরিখে রাজ্যের পঞ্চম স্থানে রামপুরহাট

বাড়ছে ডেঙ্গু, আক্রান্তের নিরিখে রাজ্যের পঞ্চম স্থানে রামপুরহাট
  • ২৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মশার অত্যাচারে রীতিমতো অতিষ্ট মানুষের জনজীবন। সন্ধ্যায় বাড়ির দরজা জানালা খোলা যাচ্ছে না। চতুর্দিকে মশা তার বাহিনী নিয়ে আক্রমণে নামছে। তাদের জোটবদ্ধ হানা কেড়ে নিয়েছে মানুষের স্বস্তি। এই পরিস্থিতিতে রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলা জুড়ে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। আক্রান্তের নিরিখে রাজ্যের মধ্যে পঞ্চম স্থানে এই স্বাস্থ্যজেলা, যা উদ্বেগ বাড়িয়েছে স্বাস্থ্য কর্তাদের। 

Advertisement

রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলার বিভিন্ন এলাকা বিশেষ করে মহানালাগুলি ময়লা আবর্জনায় ভরে আছে। নিকাশি ড্রেন ও মহানালায় জমে থাকা জলে ভালো করে দেখলেই বোঝা যাচ্ছে মশার উপস্থিতি। বিভিন্ন রাস্তার ধারে দিনের পর দিন সাজিয়ে রাখা হয়েছে নির্মাণ সামগ্রী। এছাড়া ঝোপ জঙ্গল পরিষ্কার হয় না। গত বছরও দেখা দিয়েছিল ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব। এবারও জমা জলে বাড়ছে এডিস ইজিপ্টাই-এর সংসার। ঘরে ঘরে বাসা বাঁধছে জ্বর-সর্দি-কাশি। বাড়ছে ডেঙ্গুর দাপট। 
রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলা সূত্রে জানা গিয়েছে, শেষ তিনমাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৩০। তার মধ্যে রামপুরহাট ২ ব্লকে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। ২৩ মার্চ পর্যন্ত ওই ব্লকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১১ জন। রামপুরহাট ১, নলহাটি ২, ময়ূরেশ্বর ১ ও নলহাটি পুরসভা এলাকায় তিনজন করে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাডা নলহাটি ১, মুরারই ১ ও রামপুরহাট পুরসভায় দু’জন করে ব্যক্তির দেহে ডেঙ্গুর জীবাণু ধরা পড়েছে। রাজ্যের আক্রান্তের নিরিখে তা পঞ্চম। বর্ষায় সেই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। ইতিমধ্যে প্রতিটি ব্লক, পঞ্চায়েত ও পুরসভাগুলিকে সতর্ক করেছে স্বাস্থ্যদপ্তর। 
স্বাস্থ্যজেলার ডেপুটি সিএমওএইচ প্রকাশ রায় বলেন, এবার ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। গত বছর মার্চ মাস পর্যন্ত ছয়জনের দেহে ডেঙ্গুর জীবাণু মিলেছিল। এবার সেই সংখ্যাটা ৩০। তবে গত বছর শহর এলাকায় বেশি আক্রান্ত হয়েছিল। এবার উল্টো। গ্রামাঞ্চলেই আক্রান্ত বেশি। আমরা তাই সচেতন হচ্ছি। মশা নিয়ন্ত্রণ করে পঞ্চায়েত এবং পুরসভা। তাই ডেঙ্গু রোধে তাদেরই বেশি সক্রিয় হতে হবে। ইতিমধ্যে সেই সব এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। আমরাও প্রতিটি ব্লক ও পুরসভায় ডেঙ্গু নিয়ে কাজকর্মের সঙ্গে যুক্তদের নিয়ে মিটিং করেছি। 
স্বাস্থ্যকর্তারা বলেন, মশার কামড়ে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যেমন থাকে, মশা নিধনে ব্যবহৃত কয়েল, ধূপকাঠি কিংবা কীটনাশকও বাড়াতে পারে ঝুঁকি। একমাত্রই পথ, নিজ নিজ এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা। ঝোপঝাড় নিয়মিত কেটে ফেলা। সাতদিনের বেশি কোথাও জল জমতে দেওয়া যাবে না। ফুলহাতা জামা ব্যবহার ও মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে।  রামপুরহাট শহরের বাসিন্দারা বলছেন, মশার অত্যাচারে কোথাও এক মিনিট বসা যাচ্ছে না। ইলেকট্টিক ব্যাট, কয়েল জ্বালিয়েও মশার অত্যাচার থেকে রেহাই পাচ্ছি না।
যদিও পুরসভার স্যানিটারি ইনসপেক্টর সত্যজিৎ রায় বলেন, মশা নিধনে জমা জলের জায়গায় নিয়মিত কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। ডেঙ্গু রোধে তৎপর রয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। তাদের পরিকল্পনা নিয়েই পুরসভা কাজ করছে। এই অবস্থায় জ্বর হলেই পরীক্ষা করানোর পরামর্শ চিকিৎসকদের। চিকিৎসক স্বরূপ সাহা বলেন, জ্বর হলেই সময় নষ্ট না করে টেস্ট করাতে হবে। ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ