Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চড়া রোদেও চোখরাঙানি ডেঙ্গুর, আক্রান্ত ৫৩ জন

চড়া রোদেও চোখরাঙানি ডেঙ্গুর, আক্রান্ত ৫৩ জন
  • ১৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: জুনেও যেন বৈশাখের দহন চলছে। নেমে গিয়েছে জলস্তর। যেখানে সেখানে বর্ষার মতো জল জমে নেই। তারপরও দাপট দেখাচ্ছে ডেঙ্গু। চলতি মরশুমে ৫৩জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। সংখ্যাটা যথেষ্টই বেশি। এমনটাই বলছেন আধিকারিকরা। জেলার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, জুন মাসে ছ’-সাতজন আক্রান্ত হয়েছেন। ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে জেলার বাসিন্দাদের সচেতন হতে হবে। জেলাজুড়েই সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। জেলার বাসিন্দাদেরও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। কোথাও জল জমলে তা দ্রুত সরিয়ে দিতে হবে। ঝিরঝিরে বৃষ্টি হলে অনেক সময় বিভিন্ন জায়গায় জল জমে যায়। সেটা যাতে না হয়, তা দেখতে হবে।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর কালনা মহকুমা চিন্তায় রেখেছিল। এই মহকুমায় প্রথম থেকেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি ছিল। এবার সেই কারণে ওই মহকুমার দিকে বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে। এছাড়া বর্ধমান, কালনা এবং গুসকরা শহরেও প্রচারে জোর দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় বলেন, আমরা নিজেরা প্রচারে যাচ্ছি। বাইরে ফেলে রাখা টায়ারে জল জমে ডেঙ্গুর লার্ভা জন্মায়। ফেলে রাখা বিভিন্ন পাত্রে জল জমেও ডেঙ্গুর লার্ভা জন্ম নেয়। সেসব দিকেও স্থানীয়দের নজর দিতে হবে। প্রচার চালানোর পরও কোনও দোকান মালিক বা অন্য কেউ যদি পাত্রে জল জমিয়ে রাখেন, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনেক বাড়ির ছাদে জল জমে থাকে। সেসব করলে চলবে না। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার বলেন, গত বছর শহরের দু’টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। ওই দু’টি ওয়ার্ড পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। এছাড়া, অন্যান্য ওয়ার্ডগুলিতেও সাফাই অভিযান চালান হচ্ছে। কিছুদিন পর গাপ্পি মাছ ছাড়া হবে।
স্বাস্থ্যদপ্তর জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টি হলে তেমন সমস্যা হয় না। জল সেইসময় স্রোতে চলে যায়। কিন্তু, ঝিরঝিরে বৃষ্টি হলে জল জমে থাকে। তখনই ডেঙ্গুর লার্ভা জন্মানোর আদর্শ পরিবেশ তৈরি হয়। গত বছর জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও মৃত্যু আটকানো গিয়েছিল। এবারও যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বর্ধমান শহরের বাসিন্দারা বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় পুর কর্তৃপক্ষের আরও সতর্ক হওয়া উচিত। শহরের আর্বজনা ঠিকমতো পরিষ্কার হয় না। স্টেশন চত্বরে আবর্জনা ছড়িয়ে থাকে। শহরের নর্দমাগুলিও প্লাস্টিক পড়ে মজে গিয়েছে। দূষিত জল জমে রয়েছে। সেসব পরিষ্কারে জোর দেওয়া উচিত। অনেক বাড়িতে বিভিন্ন কারণে যাঁরা জল জমিয়ে রাখেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে না বলে তাঁদের দাবি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ