নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ফুড ডেলিভারি অ্যাপ থেকে খাবার নেওয়ার পর যত্রতত্র প্যাকেট ফেলে দিচ্ছেন নাগরিকরা। খাবারের সেই খালি প্যাকেট বা পাত্রে জমছে জল। তাতে জন্মাচ্ছে লার্ভা। এক স্বাস্থ্যকর্তা বলেন, বিভিন্ন ডেলিভারি অ্যাপ থেকে খাবার নিয়ে তারপর প্লাস্টিক বা থার্মোকলের পাত্রগুলি ছড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। সেগুলিতেই জন্মাচ্ছে মশার লার্ভা।এর পাশাাপাশি ফুল থেকেও ছড়াচ্ছে কাঁটা। বলা যায়, ডেঙ্গুর কাঁটা। যে পাত্রে গাছ রাখা থাকে সেই পাত্রেই যে জুজু লুকিয়ে তা দেখতে পাচ্ছে হুগলি জেলার স্বাস্থ্যবিভাগ। পতঙ্গবিশারদরা সম্প্রতি রিপোর্ট দিয়েছেন, ডেঙ্গু মশার লার্ভা জন্মাচ্ছে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা থেকে যাচ্ছে গাছ রাখার টবে। ফলে হুগলি গ্রামীণ থেকে শহরের সমস্ত এলাকায় টবে রাখা গাছ নিয়ে চিন্তা বেড়েছে স্বাস্থ্যকর্তাদের। বাড়ির ড্রয়িংরুম বা ছাদে গাছ রাখা এখন কার্যত আভিজাত্যের পরিচয়। সেই গাছ রাখার পাত্রেই জন্মাচ্ছে বিপজ্জনক এডিশ মশার লার্ভা।আগস্ট মাসের শেষ রিপোর্ট অনুসারে, হুগলিতে ২০২৪ সালের তুলনায় ডেঙ্গু সংক্রমণের হার অনেক কম। কিন্তু এ পরিসংখ্যান স্বস্তি দিচ্ছে না স্বাস্থ্যবিভাগকে। হুগলি জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ দেবীপ্রসাদ রক্ষিত বলেন, আমরা খুব অসহায় বোধ করছি। ফুলের টব ও খাবারের ফেলে দেওয়া বাক্সগুলি বিপদসংকেত দিচ্ছে। এ সমস্যা সর্বত্র। আগস্ট মাস বিপজ্জনক ৩৪ সপ্তাহের মধ্যে পড়ে। ৩৪ থেকে ৪০ সপ্তাহ সবথেকে মারাত্মক সময়সীমা। এর পাশাপাশি হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা বলাগড়ে ওই সমস্যার মুখে পড়েছিলাম। দেবীপ্রসাদবাবুদের তৎপরতায় সেখানে ডেঙ্গু ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গিয়েছে। যদিও এবার সমস্যা শিক্ষিত ও অভিজাত মানুষদের নিয়ে। আমাদের পথ বের করতেই হবে। প্রয়োজনে নাগরিক কনভেনশন হবে।



