Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডিএমের ধমকের পরও ১০টি গ্রাম সংসদে উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করতে পারেনি খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত

ডিএমের ধমকের পরও ১০টি গ্রাম সংসদে উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করতে পারেনি খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত
  • ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: উন্নয়নের টাকা বরাদ্দ হওয়ার পরও মাসের পর মাস তা পড়ে রয়েছে। খরচ হচ্ছে না। এনিয়ে জলপাইগুড়ির নগর বেড়ুবাড়ি ও খড়িয়া পঞ্চায়েতকে কয়েকদিন আগেই প্রশাসনিক বৈঠকে রীতিমতো ধমক দেন জেলাশাসক শমা পারভীন। কিন্তু তারপরও খড়িয়া পঞ্চায়েতে কাজের গতি ফেরেনি বলে অভিযোগ। একই হাল নগর বেড়ুবাড়ি পঞ্চায়েতেরও। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, গত জুলাই মাস থেকে বারবার বলার পরও পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের বরাদ্দের মধ্যে এখনও ৫০ লক্ষ টাকার কাজের টেন্ডার বাকি খড়িয়া পঞ্চায়েতে। 
Advertisement
অন্যদিকে, এই প্রকল্পে টাকা খরচের নিরিখে জেলার যেখানে গড় ৬৩ শতাংশ, সেখানে নগর বেড়ুবাড়ি পঞ্চায়েত এখনও পর্যন্ত টাকা খরচ করতে পেরেছে মাত্র ৩৯ শতাংশ। পঞ্চায়েতের সাফাই, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে এই প্রকল্প খানিকটা পিছিয়ে পড়েছে। যদিও বৈঠকে জেলার প্রতিটি পঞ্চায়েতকে জেলাশাসক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, একটি প্রকল্পের জন্য অন্য প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকবে, এটা মোটেই মেনে নেওয়া হবে না। সবকাজ একসঙ্গে চালিয়ে যেতে হবে। উন্নয়ন যেন কোনওভাবেই থমকে না যায়। এ ব্যাপারে বিডিওদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ডিএম। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের সমস্ত বকেয়া কাজের টেন্ডার করতে না পারলে, সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতের কাছ থেকে টাকা ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফে। 
২৬টি গ্রাম সংসদ এলাকা রয়েছে খড়িয়া পঞ্চায়েতে। এরমধ্যে ১০টিরও বেশি সংসদ এলাকায় এখনও পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় উন্নয়নের কাজের রূপরেখা তৈরি করতে পারেনি পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। উপপ্রধান মনোজ ঘোষের অবশ্য সাফাই, তাঁরা ৫৮ লক্ষ টাকার কাজের টেন্ডার করেছেন। এর মধ্যে কিছু ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়ে গিয়েছে। কিন্তু গত দু’মাসে তিনজন নির্মাণ সহায়ক বদলি হয়েছেন। ফলে টেন্ডার ও ওয়ার্ক অর্ডার সংক্রান্ত রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট পোর্টালে আপলোড করা যায়নি। সেকারণে জেলা প্রশাসন আপডেট জানতে পারছে না। 
খড়িয়া পঞ্চায়েতের ১০টি গ্রাম সংসদ এলাকায় পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় কী কাজ করা হবে, তা এখনও ঠিক করতে না পারা প্রসঙ্গে উপপ্রধানের সাফাই, আগে যেসব কাজের টেন্ডার করে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হচ্ছে, সেগুলির টাকা ছাড়া হবে। পরবর্তী পর্যায়ে টাকা এলে তারপর ওই ১০টি গ্রাম সংসদ এলাকায় উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করব। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ৫৮ লক্ষ টাকায় যেসব কাজের টেন্ডার করা হয়েছে, তার মধ্যে সিমেন্ট কংক্রিট রাস্তা, নিকাশি নালা ও সৌরবিদ্যুৎ চালিত জল প্রকল্প রয়েছে। 
নগর বেড়ুবাড়ি পঞ্চায়েতের প্রধান সিপিএমের প্রমীলারানি বর্মন বলেন, কাজ শেষ না হওয়ায় আমরা টাকা আটকে রেখেছিলাম। তবে প্রশাসনিক বৈঠকে আমাদের দ্রুত প্রকল্পের টাকা খরচ করতে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে সোমবার সমস্ত পঞ্চায়েত সদস্যকে নিয়ে বৈঠক করা হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ