নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শত্রুর শেলিং বা ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা থেকে কিছুটা রক্ষা পেতে মক ড্রিলের ভূমিকা ফের স্পষ্ট হয়েছে। এমনিতে ভারতীয় উপমহাদেশ যুদ্ধদীর্ণ এলাকায় পড়ে না। তাই ছাত্রছাত্রী তো বটেই, সাধারণ মানুষের মধ্যেও এক্ষেত্রে কী কী করা উচিত, তা নিয়ে ধারণা প্রায় শূন্য। তাই ছাত্রাবস্থা থেকেই এটিকে এর পাঠ দেওয়ার জন্য দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।
উচ্চ মাধ্যমিকের স্বাস্থ্য ও শারীরশিক্ষার নয়া সিলেবাসে রয়েছে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের অধ্যায়। মক ড্রিল তার অন্তর্ভুক্ত। শুধু যুদ্ধ নয়, আগুন লাগলে, ঝড় হলে কীভাবে আত্মরক্ষা করতে হবে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ রয়েছে। অপারেশন সিন্দুরের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে যে মক ড্রিলের ঘোষণা করা হয়েছিল, তা খুব একটা গুরুত্ব পায়নি। এ রাজ্যের বেশ কিছু স্কুলে মক ড্রিল হয়েছে ঠিকই। তবে, সার্বিকভাবে জনমানসে তার প্রভাব পড়েনি। অনেক প্রতিবেশী রাজ্য থেকে এমন ভিডিও পর্যন্ত প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে ব্ল্যাক আউটের মধ্যে এলইডি বাল্ব জ্বালিয়ে, গান চালিয়ে নাচানাচি চলছে। এতে ব্ল্যাক আউটের আসল উদ্দেশ্যই মাঠে মারা যায়। স্কুলস্তর থেকে এর গুরুত্ব এবং সঠিক পদ্ধতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকিয়ে দিতে পারলে এরকম সম্ভাবনা এড়ানো যাবে।
নিচু ক্লাসে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বিস্তারিতভাবে তা নেই। উচ্চ মাধ্যমিকের শারীর শিক্ষার সিলেবাস প্রণেতা দ্বীপেন বসু এ ব্যাপারে আরও সক্রিয় হওয়ার পক্ষপাতী। তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে মক ড্রিল বা আত্মরক্ষার বিশেষ পাঠ দিয়ে সার্বিক উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। সেটা তখনই সম্ভব, যদি মাধ্যমিক স্তরেও শারীরশিক্ষা আবশ্যিক বিষয় হিসেবে ঢোকে।’ সমস্যা হল, মাধ্যমিকের সিলেবাস পরিবর্তন এখন অনিশ্চিত। বিশেষজ্ঞ কমিটিও নিষ্ক্রিয়। তবে, কখনও সিলেবাস পরিবর্তন হলে এগুলি যাতে রাখা হয়, সেই দাবিই উঠছে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে।