Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কাটমানি ফেরানোর দাবি, উত্তাল আমতার চন্দ্রপুর

দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা আসফার মিদ্দে। কিন্তু তারপরেও তিনি দাদাগারি করতে ছাড়তেন না। এমন অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উলুবেড়িয়া উত্তর বিধানসভার চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা।

কাটমানি ফেরানোর দাবি,  উত্তাল আমতার চন্দ্রপুর
  • ১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা আসফার মিদ্দে। কিন্তু তারপরেও তিনি দাদাগারি করতে ছাড়তেন না। এমন অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উলুবেড়িয়া উত্তর বিধানসভার চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। রবিবার ক্ষুদ্ধ জনতা মিদ্দের শাস্তির দাবিতে তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখায়। যদিও আভিযুক্ত আসফার মিদ্দের বাড়িতে তালা দেওয়া থাকায় পরিস্থিতির অবনতি হয়নি।

Advertisement

উলুবেড়িয়া উত্তর বিধানসভার চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আসফার মিদ্দে বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূলের সহ সভাপতি। তাঁর স্ত্রী চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। এছাড়াও তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য তৃণমূলের বিভিন্ন পদে আসীন। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, তৃণমুল নেতা হওয়ার সুবাদে আসফার মিদ্দে আবাস যোজনায় কাটমানি খাওয়া থেকে সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি– সব কিছুতেই জড়িত। কেউ এই বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাঁকে তৃণমূলের অফিসে ডেকে নিয়ে গিয়ে মারধর করা, বাড়ি ভাঙচুর থেকে গ্রামছাড়া করার অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এতদিন তৃণমূল ক্ষমতায় থাকায় সাধারণ মানুষ কোনো প্রতিবাদ করতে পারেননি। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর রবিবার মিদ্দের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামবাসীরা। এদিন শতাধিক গ্রামবাসী আসফারের তালাবন্ধ বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান। কয়েকজন গ্রামবাসী তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে পচা ডিমও ছোড়েন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, আসফার মিদ্দে এলাকায় দাদাগিরি করে বেড়াতেন। সঙ্গে থাকতেন ২০ জন স্যাঙাত। ওঁদের অত্যাচারে গ্রামের ৩০০ পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ঘরছাড়া। আবাস যোজনার কাটমানি নিতেন। গ্রামে থাকতে হলে মুখ বুজে থাকতে হতো। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের দিন থেকেই সপরিবারে আসফার বাড়ি থেকে পালিয়েছেন। অবিলম্বে কাটমানি ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি করেন গ্রামবাসীরা।
এলাকার এক বাসিন্দা লাল্টু বেগ অভিযোগ করেন, চন্দ্রপুর অঞ্চলে আসফার মিদ্দের কথাই শেষ কথা। প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল মাজির অঙ্গুলি হেলনে আবাস যোজনায় কাটমানি খাওয়া থেকে নানা দুর্নীতিতে তিনি যুক্ত ছিলেন। আবাস যোজনায় এক একটি বাড়ি থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি নিতেন। আর এইসব দুর্নীতির কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁকে দলীয় কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে গিয়ে মারধর করতেন। গ্রামছাড়াও করে দেওয়া হতো। আমি এইসবের প্রতিবাদ করায় আমাকেও গ্রামছাড়া করা হয়েছিল। এলাকার বিধায়ক চিরণ বেরার উদ্যোগে পাঁচ বছর পর আমি বাড়ি ফিরেছি।
বিষয়টি নিয়ে উলুবেড়িয়া উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক চিরণ বেরা জানান, চন্দ্রপুর অঞ্চলের ভিতরের বিষয় আমার জানা নেই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসাবে নির্বাচনের আগে ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তবে যদি কেউ অন্যায় করে থাকেন, তাহলে আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও এই ব্যাপারে আসফার মিদ্দের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ