নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: দু’ বছর বাদেও কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি তালডাংরার পান মার্কেট চালু করা গেল না। তালডাংরা ব্লকের শিবডাঙা মোড়ে তৈরি ওই পান বাজারের সীমানা প্রাচীর না থাকায় সেটি বর্তমানে নেশাখোরদের আড্ডা হয়ে উঠেছে। রাতে সেখানে মদ্যপদের দৌরাত্ম্য চলে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পান চাষিরা দ্রুত পরিকাঠামো উন্নয়ন করে পান বাজার চালুর দাবিতে সরব হয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, সোম ও শুক্রবার তালডাংরায় পানের বাজার বসে। সেখানে একদিনে প্রায় পাঁচ লক্ষ পানের পাতা বেচাকেনা হয়।
কিন্তু দু’ বছরেও কেন চালু করা গেল না পান বাজার? তালডাংরার বিবরদা গ্রামের পানচাষি গণেশ ঘোষ, ওন্দার তিলাবনীর রাজীব পাত্র বলেন, তালডাংরা বাজার থেকে বেশ কিছুটা দূরে পান বাজার গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে এটিএম না থাকায় সমস্যা হচ্ছে। ভিন রাজ্য এবং অন্য জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা সঙ্গে নগদ আনেন না। তাঁরা এটিএম থেকে টাকা তুলে পান কেনেন। তালডাংরা বাজার থেকে লাখ লাখ নগদ নিয়ে তাঁরা শিবডাঙ্গা মোড়ে যেতে চাইছেন না। তাছাড়া ওই বাজারে পরিকাঠামোগত কিছু সমস্যা রয়েছে। বাজার প্রাঙ্গণ ঢালাই করা প্রয়োজন। সীমানা প্রাচীর নির্মাণও জরুরি। আমরা ওইসব দাবিদাওয়া প্রশাসনকে ডেপুটেশন আকারে জানিয়েছি। কিন্তু প্রশাসনের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সেই কারণে অস্থায়ীভাবে তালডাংরায় বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়কের দু’ পাশে পান বেচাকেনা চলছে।
বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়কের পাশে ওই বাজার তৈরি করা হয়। চাষিদের দাবি মেনে আমরা রাজ্য সড়ক থেকে বাজার পর্যন্ত ঢালাই রাস্তা করে দিয়েছি। বাকি দাবি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত বাজার চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির তরফে দুই দফায় ২৬ লক্ষ ৯১ হাজার ও ৩৩ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। প্রথম দফায় মাটি ভরাট, জমি সমান করা হয়। বাকি টাকায় বাজারের শেড তৈরি হয়। পরে বাঁকুড়া জেলা পরিষদের তরফে ৩৫ লক্ষ ৩১ হাজার টাকায় ফের একটি শেড করা হয়। পঞ্চম রাজ্য অর্থ কমিশন থেকে পাওয়া ওই টাকা জেলা পরিষদ বরাদ্দ করেছিল। পরে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পঞ্চদশ কেন্দ্রীয় কমিশন থেকে পাওয়া ৬ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকায় বাজার চত্বরে শৌচালয় (কমিউনিটি টয়লেট) তৈরি করা হয়। সবমিলিয়ে ওই বাজার তৈরি করতে সরকারের ১ কোটি ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তারপরও সেখানে পান বেচাকেনার পরিবর্তে নেশার ঠেক বসায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। -নিজস্ব চিত্র