Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলাদেশের থেকে ভারতের ১০০ একর জমি দখলমুক্ত করার দাবি

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় একশো একর ভারতীয় জমি বাংলাদেশের দখলে। দীর্ঘদিন থেকে সেই জমি জবরদখল করে চাষ করছে ওদেশের লোকজন।

বাংলাদেশের থেকে ভারতের ১০০ একর জমি দখলমুক্ত করার দাবি
  • ২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় একশো একর ভারতীয় জমি বাংলাদেশের দখলে। দীর্ঘদিন থেকে সেই জমি জবরদখল করে চাষ করছে ওদেশের লোকজন। ভারতীয় ভূখণ্ডের জমি বাংলাদেশের হাত থেকে দখল মুক্ত করার দাবিতে সরব সীমান্তের স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা জানান, হোগলবেড়িয়া থানার কাছারিপাড়া সীমান্ত এলাকার ১৫৩/১১ এস থেকে ১৫৪/৬ এস পিলার সংলগ্ন ৯৮ একর জমি ভারতের হলেও সেই জমিতে  চাষ করতে যেতে পারছেন না এদেশের চাষিরা। অথচ ওই জমিতে বাংলাদেশিরা চাষ করছে। 

Advertisement

কাছারিপাড়ার বাসিন্দা ও করিমপুর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সিপিএমের প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ শঙ্কর মণ্ডল জানান, ২০১৫ সালে দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে সীমানা পুনর্বিন্যাসের সময় এলাকার মাথাভাঙা নদীর ওপারে বাংলাদেশের দখলে থাকা ১৩২৯. ৩২ একর ভারতীয় জমি বাংলাদেশকে দিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু, সেই চুক্তিতে মাথাভাঙা নদীর এপারে থাকা ৯৭.২৮ একর জমি ভারতের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা হলেও তা তারা দিচ্ছে না। চুক্তি অনুযায়ী ওই জমি ভারতের হওয়ার কথা। ১৯৯৬ সালে পদ্মার ভাঙনে সীমান্তের অনেক জমি পদ্মার গর্ভে তলিয়ে যায়। কিন্তু, পরবর্তীকালে নদী গতি পরিবর্তন করায় সেখানে পলি পড়ে চর জেগে ওঠে। সেই জেগে ওঠা চরের জমি ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন চাষিরা। 
ওখানকার বাসিন্দারা জানান, স্বাধীনতার পর ওই জমি ভারতীয় চাষিদের দখলে থাকলেও এখন তা বাংলাদেশের দখলে চলে গিয়েছে। ভারতের ওই জমিতে এখন বাংলাদেশিরা তামাক চাষ করছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগে একাধিকবার জমি উদ্ধারের জন্য দাবি করা হয়েছে। কিন্তু আজও পর্যন্ত কোনও সমাধান হয়নি। সরকারিভাবে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলিকে জানানো হয়। দিন কয়েক আগে জমির মালিকদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে এলাকায় এসেছিলেন নদীয়া জেলার সিপিএম নেতৃত্ব। তাঁরা জমিহারাদের সঙ্গে কথা বলেন। স্থানীয় নিউ উদয় ক্যাম্পের ১৪৬ ব্যাটেলিয়ানের বিএসএফের আধিকারিক ধীরাজ কুমারের সঙ্গেও  বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। করিমপুর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তৃণমূলের আলাউদ্দিন মণ্ডল বলেন, চাষিদের সমস্যার ব্যাপারে আমরা দলের উচ্চ নেতৃত্বকে এবং প্রশাসনকে জানিয়েছি। এই সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। যদিও বিএসএফের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কেউ কোনও মন্তব্য করেননি। বিএসএফের আধিকারিকরা আন্তর্জাতিক এই সমস্যার জন্য উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ