নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: অরণ্য সুন্দরী ঝাড়গ্রাম। আদিবাসী জন গোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গে জুড়ে রয়েছে জঙ্গল ও বনের পশুপাখিরা। জেলার প্রায় প্রতিটি গ্ৰামের নামকরণ হয়েছে বন, বাঘ, ভাল্লুক, হাতি ও শিয়ালের নামে। স্বাভাবিকভাবেই পর্যটকদের কাছে এই গ্ৰামগুলি আকর্ষণের কেন্দ্রে। সেইসব গ্রামগুলিকে এবার পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি তুললেন পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা।
একদা ঝাড়গ্ৰাম ঢাকা ছিল ঘন অরণ্যে। বন্য প্রাণীদের ছিল অবাধ বিচরণ। দুশো বছর আগে জেলার বিভিন্ন জঙ্গলে বাঘ, চিতাবাঘ, হায়না, ভাল্লুকের দেখা মিলত। আজ আর মেলে না । বন ও বন্যপ্রাণীদের সেইসব অতীত স্মৃতি জেলার বহু গ্ৰাম আজও বহন করে চলেছে। পর্যটকদের কাছে এইসব এলাকা দিন দিন আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। কিছু দিন আগেই বেলপাহাড়ীর জঙ্গলে বাঘিনী জিনাত ঢুকে পড়ে। রাজ্যজুড়ে যা নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। তারপরও জঙ্গল এলাকায় বাঘের পায়ের ছাপের সন্ধান মিলেছে। জেলার বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলার বহু এলাকায় একসময় বাঘের বিচরণক্ষেত্র ছিল।
ওইসব এলাকার সঙ্গে বাঘের নাম জুড়ে রয়েছে। ঝাড়গ্রাম ব্লকের বাঘমারাসোল, জামবনী ব্লকের বাঘঘরী, নয়াগ্ৰাম ব্লকের বাঘডোবা, বাঘামাচা। বিনপুর -১ ব্লকের বাঘঘোরী , বাঘুয়াসোল , বাঘমারা। ঝাড়গ্ৰামের জঙ্গলে একসময় প্রচুর ভাল্লুকও দেখা যেত। বহু জায়গার নামে ভাল্লুক নামটি জুড়ে রয়েছে। যেমন, ঝাড়গ্রাম ব্লকের ভালুকখুলিয়া, বিনপুর -২ ব্লকের ভালুকচুয়া, গোপীবল্লভপুর -১ ও ২ ব্লকেও আছে ভালুক খুলিয়া গ্ৰামের নাম। সাঁকরাইল ব্লকে ভালুকবাসাডিহী, ভালুকবাসাজল, নয়াগ্ৰাম ব্লকের ভালুকাচুয়া ভালুকগাজড়ি, ভালুকখরা, ভালুকতাড়া। শিয়াল নামে শিয়ালডাঙ্গা, শিয়ালিয়া শিয়া কাঁটা জেলাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। হাতির নামেও বহু গ্রাম রয়েছে জেলায়। যেমন, হাতিবাড়ি, হাতিডোবা, হাতিলোট— তালিকা দীর্ঘ। গ্ৰাম জঙ্গলের শিয়ালদের স্মৃতি বহন করে চলেছে। এই গ্রামগুলিকে ঘিরে পর্যটকদের উৎসাহ ও কৌতূহল তুঙ্গে। ক্রমশ তাঁদের ভিড়ও বাড়ছে। তাই গ্রামগুলিকে কেন্দ্র করে জেলার পর্যটনশিল্পের প্রসার চান ব্যবসায়ীরা।
ঝাড়গ্রাম হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শিবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, পর্যটকদের বড় আকর্ষণের জায়গ জেলার জঙ্গলভূমি। পর্যটকদের বড় একটা অংশ ঝাড়গ্রাম জুলজিক্যাল পার্কে বেড়াতে আসেন। পর্যটকরা এখানে এসে নতুন জায়গায় যেতে চাইছেন। বনের পশুপাখিদের নামে চিহ্নিত গ্ৰামগুলিতে যাওয়ার আকর্ষণ বাড়ছে। পর্যটন স্থল হিসেবে এইসব জায়গায় রাস্তা, শৌচালয় সহ কিছু পরিকাঠামো গড়ে তুললে পর্যটনের প্রসার বাড়বে। প্রশাসনিক আধিকারিক ও লেখক অরুণাভ দত্ত ঝাড়গ্রাম জেলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চর্চা করছেন। তিনি বলেন, ঝাড়গ্রামের বহু গ্ৰামের নামের সঙ্গে বন ও বন্য প্রাণীদের নাম জড়িয়ে রয়েছে। নামগুলি এক অতীত সময়ের সাক্ষী। আদিবাসী ও জনজাতি অধ্যুষিত এলাকা হওয়ার কারণেই সম্ভবত নামগুলি বদলে যায়নি।