Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আলপনা গ্রাম ‘লবণধার’ ঘিরে পর্যটনের পরিকাঠামো গড়ার দাবি

আলপনা গ্রাম ‘লবণধার’ ঘিরে পর্যটনের পরিকাঠামো গড়ার দাবি
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুদীপ পাল, মানকর: জঙ্গলঘেরা গ্রাম আউশগ্রাম-২ ব্লকের লবণধার। পাতা ঝরার মরশুমে প্রায়ই আগুন লাগে জঙ্গলে। অনেক সময় অভিযোগ ওঠে সেই আগুন মানুষ লাগিয়েছে। কিন্তু জঙ্গলে আগুন লাগানো উচিত নয়। সচেতনতার এই পাঠ দিতেই গ্রামের কয়েকজন মিলে তৈরি করে একটি সংগঠন। তাঁদের উদ্যোগেই শুরু হয় গ্রামের বাড়ির দেওয়ালে ছবি এঁকে প্রচার। এখন সেই গ্রাম যেন একটা আস্ত ক্যানভাস। বিভিন্ন ছবি আঁকা হয়েছে সেই ক্যানভাসে। জঙ্গল রক্ষার বার্তা, গ্রামীণ জীবনের দৈনন্দিন জীবনযাপন থেকে রামায়ণ-মহাভারতের কাহিনী সবই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ছবির মাধ্যমে। লবণধার গ্রাম সেজে উঠেছে বিভিন্ন ছবিতে। গ্রাম দেখতে বর্ধমান, বীরভূম ছাড়াও হাওড়া, হুগলি, কলকাতা থেকে নিয়মিত পর্যটকরা আসছেন। কিন্তু উপযুক্ত যাতায়াতের পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে বলে মত তাঁদের। মানকর বা পানাগড় স্টেশন থেকে লবণধার গ্রামে পৌঁছতে সমস্যা হচ্ছে। 

Advertisement

গ্রামবাসীরা জানান, প্রায় ৩০০ বছর আগে বড়ডোবায় জেবনা বা জীবন নামে এক ডাকাত থাকত এই এলাকায়। বুদবুদে চুরি করতে গিয়ে সে ধরা পড়ে। ডাকাতের উৎপাত থেকে বাঁচতে বড়ডোবার রায় বাড়ির সদস্যরা একটি পাখি ওড়ান। তাঁরা ঠিক করেন, পাখি যেখানে বসবে সেখানেই নতুন করে বসতি স্থাপন করা হবে। লবণধার গ্রামের ধর্মরাজতলায় একটি বড় বটগাছে পাখিটি এসে বসে। সেখানেই নতুন বসতি স্থাপন হয়। গ্রামের নাম দেওয়া হয় নতুনগ্রাম। কিন্তু পরে দেখা যায় আশপাশে আরও নতুনগ্রাম রয়েছে। বিভ্রান্তি এড়াতে তাই নাম রাখা হয় নবধার বা নবনধার। কালক্রমে সেটি লবণধার হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। বর্তমানে এই গ্রাম আলপনা গ্রাম নামে পরিচিতি লাভ করেছে। তবে এই নাম কে বা কারা দিয়েছে তা অজানা গ্রামবাসীদের কাছে। 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রাম সংলগ্ন জঙ্গলে প্রায়ই আগুন লাগে। জঙ্গলে আগুন লাগালে সেখানে বাস করা প্রাণীদের সমস্যা হয়। পাশাপাশি পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এলাকার বাসিন্দাদের সচেতনতার পাঠ দিতেই গ্রামের কয়েকজন যুবক মিলে তৈরি করেছিলেন একটি সংগঠন। তারাই প্রথম উদ্যোগী হয়ে বাড়ির দেওয়ালগুলিতে ছবি আঁকা শুরু করে। পরবর্তীকালে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এই উদ্যোগ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত এবং ভিনরাজ্য থেকে শিল্পীরা আসেন এই গ্রামে। বাড়ির দেওয়ালগুলিতে ছবি আঁকা হয়। একটি জনপ্রিয় ক্যুইজ শোতে লবণধার গ্রামের কথা উঠে আসে। অনেকে গ্রাম ঘুরে যাওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্রামের ছবি পোস্ট করছেন। তা দেখেও বহু মানুষ আগ্রহী হয়ে গ্রাম ঘুরতে আসছেন। কিন্তু গ্রামে আসার জন্য পর্যটকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
গ্রামের কাছাকাছি দু’টি স্টেশন রয়েছে। মানকর ও পানাগড়। মানকর থেকে গ্রামের দূরত্ব ১১ কিলোমিটার ও পানাগড় থেকে প্রায় ১৮কিলোমিটার। এই রাস্তায় সরাসরি কোনও বাস নেই। মানকর থেকে গেলে ভাতকুণ্ডাগামী রাস্তায় সোলাগড়ে নামতে হবে। তারপর টোটোর উপর নির্ভর করতে হয়। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেও টোটো পাওয়া যায় না। পানাগড় থেকে হাতে গোনা কয়েকটি বাস দেবশালা, জিজিরা হয়ে যায়। সেই বাস ধরে জিজিরা এসে হেঁটে গ্রামে যেতে হয়। অথবা পানাগড়-মোড়গ্রাম রাজ্য সড়কের উপর ত্রিলোকচন্দ্রপুরে নেমে টোটো ধরে গ্রামে আসতে হয়। হুগলির ব্যান্ডেল থেকে গ্রামে এসেছিলেন সংযুক্তা লাহা। তিনি বলেন, ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেসে মানকরে নেমে লবণধার গ্রামে এলাম। সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকলে ভালো হতো। এইটুকু আসার জন্য গাড়ি ঠিক করতেই অনেক সময় চলে গেল। লবণধার গ্রামের ওই স্বচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষে অর্ণব ঘোষ বলেন, গ্রামে আসার আগে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মানকর স্টেশন থেকে গাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ