সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নলহাটি, মুরারই বিধানসভা সহ লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দাদের যন্ত্রণার নাম ‘আজিমগঞ্জ’ রেলগেট। সময় ও প্রজন্ম যেখানে গতির চাকায় ভর করে দৌড়চ্ছে, সেখানে নলহাটির রেলগেটে মানুষকে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে হয়। রামপুরহাট মেডিক্যালে নিয়ে আসার পথে এই রেলগেটে আটকে অনেক রোগীও মারা যাচ্ছেন বলে অভিযোগ। কিন্তু দশকের পর দশক কেটে গেলেও সমস্যার সুরাহা হচ্ছে না।
পূর্ব রেল শাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল জংশন নলহাটি। স্টেশনের ২০০ মিটারের মধ্যে দু’টি রেলগেট মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি বর্ধমান-সাহেবগঞ্জ লুপ লাইনের উপর। শহরকে দু’ভাগে ভাগ করেছে। অন্যটি আজিমগঞ্জ যাওয়ার লাইনের উপর, যা বোলপুর রাজগ্রাম রোডের উপর অবস্থিত। এলাকায় ‘আজিমগঞ্জ’ রেলগেট নামে পরিচিত। দিনের অধিকাংশ সময় এই লাইনে মালগাড়ি চলে। বিশেষ করে সাগরদিঘি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা বোঝাই মালগাড়ি যায়। যাত্রীবাহী ট্রেন হাতেগোনা। এক্সপ্রেস ট্রেন বলতে হাওড়া-আজিমগঞ্জ কবিগুরু ও গণদেবতা এক্সপ্রেস। এই রেলগেটে দীর্ঘ সময় নলহাটি, মুরারই সহ ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দাদের আটকে থাকতে হয়। এই রেলগেট দিয়ে নিত্য মুরারইয়ে যাতায়াত করেন নলহাটির বাসিন্দা শুভময় মণ্ডল। তিনি বলেন, একবার গেট পড়া মানে কমপক্ষে আধঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সেই সময় গেটের দু’ধারে যানবাহন দাঁড়িয়ে পড়ায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট কাটিয়ে যেতে আরও কুড়ি মিনিট সময় লাগে। প্রত্যেকদিন রেলগেটের এই যন্ত্রণায় জীবন দুর্বিষহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে মুরারই থেকে রামপুরহাট মেডিক্যালে আসার পথে রেলগেট রোগী নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অ্যাম্বুলেন্সগুলিকে। দীর্ঘক্ষণ রেলগেট বন্ধ থাকায় অনেক মুমূর্ষু রোগী মারাও যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এই অবস্থায় ওভারব্রিজ বা আন্ডারপাস তৈরির দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকার মানুষ।
বর্ধমান-সাহেবগঞ্জ লুপ লাইনে বিভিন্ন এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ ও করোনাকালে বন্ধ হওয়া ট্রেনগুলি পুনরায় চালু করার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে নলহাটি নাগরিক মঞ্চ। সংগঠনের সহ সম্পাদক রাজেন্দ্র মিশ্র বলেন, নলহাটি গুরুত্বপূর্ণ জংশন হওয়া সত্ত্বেও রেলের কাছে উপেক্ষিত। এই রেলগেট দিয়ে প্রত্যহ নলহাটি, মুরারই ও ঝাড়খণ্ডের হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত। রেলগেটে প্রায় আধঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা স্কুল পডুয়া থেকে নিত্যযাত্রীদের আটকে থাকতে হয়। আর এর ফলে সমস্যার মুখে পড়তে হয় নিত্যযাত্রীদের। সমস্যা জেনেও রেল কোনও পদক্ষেপ করছে না। অনেকে অধৈর্য্য হয়ে লাইন পেরিয়ে চলাচল করার সময় ট্রেনের ধাক্কায় মারাও যাচ্ছেন।
এদিন রেলগেটে আটকে থাকা বাসযাত্রী মুরারইয়ের বাসিন্দা নাফিসা রহমান বলেন, রামপুরহাট মেডিক্যাল থেকে অসুস্থ বাচ্চাকে দেখিয়ে ফিরছি। আধঘণ্টা হতে চলল রেলগেট বন্ধ। রোদে গরমে বাসের ভিতরে বাচ্চা খুবই কষ্ট পাচ্ছে। নেমে যে দাঁড়াব, তারও উপায় নেই। বাইক সহ অন্যান্য যানবাহন আটকে পড়ায় হেঁটে যাওয়ার রাস্তাও নেই। এই যন্ত্রণার বিহিত হওয়া উচিত। এলাকার তৃণমূল বিধায়ক রাজেন্দ্রপ্রসাদ ভকত বলেন, আজিমগঞ্জ রেলগেট কয়েক লক্ষ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে রেলকে সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনও হেলদোল নেই।
এব্যাপারে পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত বলেন, অধিকাংশ রেলগেটেই আমরা চেষ্টা করছি বিকল্প হিসাবে লিমিটেড হাইটের সাবওয়ে করে দিতে। আশাকরি সেই তালিকায় এই রেলগেটও রয়েছে। যদিও সেটা দেখতে হবে। তাছাড়া এলাকার মানুষ গেট নম্বর উল্লেখ করে আবেদন করলে ভালো হয়।