নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: গত ৯ এপ্রিল থেকে চালু হওয়া পাঁশকুড়া-দীঘা স্পেশালকে নিয়মিত করার জোরালো দাবি উঠল। পাঁশকুড়া, হলদিয়া, দীঘা সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ে প্যাসেঞ্জার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের ভিত্তিতে দক্ষিণ-পূর্ব রেল গত ৯ এপ্রিল থেকে ৮ জুন পর্যন্ত দু’মাসের জন্য ওই স্পেশাল চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা লবণ সত্যাগ্রহ স্মারক স্টেশনে বসে বৈঠক করেন। এই বৈঠকের এজেন্ডা একটাই, পাঁশকুড়া-দীঘা স্পেশালকে নিয়মিত করতে হবে। পাশাপাশি ওই ট্রেন যাতে পাঁশকুড়ার পরিবর্তে সাঁতরাগাছি কিংবা হাওড়া থেকে চালানো যায় সেই দাবিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে রেল কর্তৃপক্ষকে শীঘ্রই চিঠি দেওয়া হবে।
দীঘাগামী সাধারণ পর্যটক থেকে জগন্নাথ ভক্ত, হোটেল মালিক প্রত্যেকের দাবি, পাঁশকুড়া-দীঘা স্পেশালকে ৮ জুনের পরও চালানো হোক। কারণ, গত ৩০ এপ্রিল জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটনের পর থেকেই দীঘায় পুণ্যার্থীর সংখ্যা হু-হু করে বেড়ে গিয়েছে। বিকেল সাড়ে ৫টার পর গোটা মন্দির চত্বর কালো মাথায় ঢেকে যাচ্ছে। সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত মন্দিরের দু’টি গেটের সামনে বিরাট লাইন পড়ে যাচ্ছে। পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য ছ’নম্বর গেট দিয়ে মন্দিরে ঢোকার পাশাপাশি বেরনোরও সুযোগ করে দিয়েছে প্রশাসন। উদ্বোধনের পর থেকে ৬ নম্বর গেট দিয়ে ঢোকা এবং ৭ নম্বর গেট দিয়ে বেরনোর ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু, তাতে জগন্নাথ ভক্তরা সমস্যায় পড়ছিলেন। সেই সমস্যার সমাধান করেছে প্রশাসন। এছাড়াও ২ ও ৩ নম্বর গেট দিয়ে মন্দিরে ঢোকা এবং বেরনোর জন্য খোলা থাকছে।
এই মুহূর্তে দৈনিক ৫৫ থেকে ৬০ হাজার পুণ্যার্থী মন্দিরে ভিড় করছেন। গরমের সময় অনেকেই কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশে বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যান করেছিলেন। কিন্তু, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেইসব ট্যুর বাতিল। অশান্ত পরিস্থিতিতে অনেকেই দূরবর্তী জায়গায় বেড়াতে যাওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছেন না। তাঁদের মধ্যে সিংহভাগ দীঘাকেই বেছে নিয়েছেন। যেকারণে প্রতিদিন সকাল থেকেই ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষের সমাগম ঘটছে। বাসে, ট্রেনে, প্রাইভেট গাড়িতে হাজার হাজার মানুষের গন্তব্যস্থল দীঘা। বিকালের পর তাঁরা জগন্নাথ মন্দির দর্শনের জন্য লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। সন্ধ্যার পর রোজ তিন-চারজন ওসি এবং আইসি পদমর্যাদার পুলিস অফিসার মন্দিরে নিরাপত্তায় থাকছেন। এছাড়াও পর্যাপ্ত বাহিনী রয়েছে।
শনিবার মন্দিরে গিয়েছিলেন শহিদ মাতঙ্গিনী পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ জয়দেব বর্মণ। তিনি বলেন, দীঘা যাওয়ার জন্য বেশিরভাগ মানুষজন ট্রেনই বেশি পছন্দ করেন। কিন্তু, পাঁশকুড়া-দীঘা লাইনে ট্রেনের সংখ্যা সীমিত। এক্সপ্রেস ট্রেন সময়সূচি মেনে চলে না। আপাতত স্পেশাল ট্রেনটি নিয়মিত করলে মানুষজনের সুবিধা হয়। যাত্রীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে রেল কর্তৃপক্ষের এই বিষয়ে নজর দিলে ভালো হয়।
ওই স্পেশাল ট্রেনটি সকাল ১১টায় পাঁশকুড়া থেকে ছাড়ে। সেটি দীঘা পৌঁছয় দুপুর ১টা ৫০মিনিটে। তারপর দুপুর ২টা ৫০মিনিটে দীঘা থেকে ছেড়ে পাঁশকুড়ায় পৌঁছায় বিকেল ৫টা ৩৫মিনিটে। দীঘা থেকে ফেরার সময় অনেক যাত্রী এই ট্রেনে চড়েন। পাঁশকুড়া-হলদিয়া-দীঘা প্যাসেঞ্জার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সরোজ ঘড়া বলেন, আমাদের সংগঠনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ-পূর্ব রেল ওই স্পেশাল ট্রেনটি চালানো শুরু করে। সেটি দু’মাসের জন্য চালানোর বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। আমাদের দাবি, ওই ট্রেনটি নিয়মিত করা হোক। আমরা শীঘ্রই এনিয়ে রেল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেব। পাঁশকুড়া-দীঘা লাইনের চিফ কমার্শিয়াল ইন্সপেক্টর চন্দনভূষণ কুমার বলেন, দু’মাসের জন্য পাঁশকুড়া-দীঘা স্পেশাল ট্রেন চালানো শুরু হয়েছে। যাত্রীদের চাহিদা থাকলে সেটি আরও বেশিদিন চলতে পারে।