চাহিদা বেড়েছে, লক্ষ্মীলাভের  আশায় বাগদার শোলাশিল্পীরা
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কুন্তল পাল, বনগাঁ: লক্ষ্মীপুজোয় চাহিদা বাড়ে শোলার তৈরি ফুল ও সাজের। ফলে সারাবছর ধরে এই সময়ের অপেক্ষায় থাকেন বাগদার জিৎপুরের শিল্পীরা। তাঁরা প্রাচীন আমলের শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। এবছর শোলার ফুলের চাহিদা রয়েছে। সে কারণে শিল্পীরা বিক্রি ভালো হওয়া নিয়ে খানিক আশ্বস্ত। বৃহস্পতিবার জিৎপুরে গিয়ে দেখা গিয়েছে শোলা শিল্পীরা চরম ব্যস্ত। শোলা কাটার কাজ করছেন অনেকে। কেটে কেটে ফুটিয়ে তুলছেন বিভিন্ন আকারের ফুল। তারপর সে তা রং করে সাজিয়ে তুলছেন। 

Advertisement

শিল্পীরা জানালেন, এবছর শোলার ফুলের চাহিদা ভালোরকম রয়েছে। তবে শোলার জোগান কম। ফলে পরিমাণ মতো ফুল তৈরি করে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও শিল্পীদের আশা, উপযুক্ত দাম মিলবে। লক্ষ্মীপুজোয় লক্ষ্মীলাভ হবে। বৃহস্পতিবার সাইকেলে নিজের তৈরি শোলার ফুল নিয়ে বাজারে যাচ্ছিলেন শিল্পী বিশ্বজিৎ দাস। তিনি জানালেন, গতবারের তুলনায় এবছর চাহিদা অনেকটাই বেশি। দাম ভালোই পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্যবার দাম কম থাকে। এবছর ১৭০০ থেকে ২০০০ টাকা দাম উঠেছে ১০০ ফুলের। তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর স্ত্রী তাঁকে এই কাজে সাহায্য করেন। বছরভর খালবিল থেকে শোলা তোলেন। মজুত করে রাখেন। তা পর্যাপ্ত না হলে কিনেও আনেন। এবছর যেমন সময়মত বৃষ্টি না হওয়ায় শোলা কম মিলেছে। ফলে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। তাই অনেককে তা কিনতে হয়েছে। শিল্পী শেফালি বিশ্বাস জানান, তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন ৫০ বছর ধরে শোলার ফুল তৈরি করেন। ৩০ বছর ধরে তিনিও এই শিল্পের কাজে জড়িত। লক্ষ্মীপুজোর জন্য এ সময় তাঁদের প্রবল ব্যস্ততা থাকে। ফলে দুর্গাপুজোয় সেভাবে আনন্দ করতে পারেন না। তবে অতিরিক্ত রোজগারের আশায় এই সময়ের দিকেই তাকিয়ে থাকেন।
শিল্পীরা জানালেন, বিল থেকে শোলা সংগ্রহ করে প্রথমে রোদে শুকিয়ে নিতে হয়। তারপর সেগুলি ছোটো ছোটো করে কেটে নেওয়ার নিয়ম। পরবর্তী ধাপে অত্যন্ত ধারালো ছুরি দিয়ে ধীরে ধীরে তা কেটে কেটে সুতোর সাহায্যে তৈরি করতে হয় বিভিন্ন ধরণের ফুল। এরপর রং ও জরি জড়িয়ে সুন্দর করে তোলা হয় সেগুলি। শিল্পীরা দীর্ঘসময় ধরে অসীম ধৈর্য সহকারে বহু যত্ন নিয়ে তৈরি করেন শোলার ফুল। গোটা বছর ধরে লক্ষ্মীপুজো আসার অপেক্ষায় দিন গোনেন। তারপর ভলো বিক্রি হলে নিশ্চিন্ত।