Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খেজুরির বোগা গ্রামে স্বাধীনতার স্মৃতি বিজড়িত ডাকবাংলো সংরক্ষণের দাবি

খেজুরির বোগা গ্রামে স্বাধীনতার ইতিহাস বিজড়িত প্রাচীন এবং ভগ্নদশাপ্রাপ্ত বাংলোটি সংরক্ষণের দাবি তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা।

খেজুরির বোগা গ্রামে স্বাধীনতার স্মৃতি বিজড়িত ডাকবাংলো সংরক্ষণের দাবি
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: খেজুরির বোগা গ্রামে স্বাধীনতার ইতিহাস বিজড়িত প্রাচীন এবং ভগ্নদশাপ্রাপ্ত বাংলোটি সংরক্ষণের দাবি তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। বর্তমানে বিশাল এই বাংলোর মধ্যে উঠেছে অজস্র গাছ। বাংলোটি বাদুড়-চামচিকের আস্তানা হয়েছে। সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে একটু একটু করে ভেঙে পড়ছে বাংলোটি। তাঁদের দাবি, বাংলোটি সংরক্ষণ করা হোক। না হলে একদিন বাংলোটি বিলীন হয়ে যাবে। তবে তাঁদের দাবি, বাংলো সহ জায়গাকে কাজে লাগিয়ে সরকারি উদ্যোগে কোনও প্রকল্প গড়ে তোলা যেতে পারে। তাহলে খুবই ভালো হবে। খেজুরির বোগা এলাকায় বিদ্যাপীঠ-বোগা পাকা রাস্তার পাশে সামান্য দূরে এই বাংলোটি রয়েছে। 

Advertisement

খেজুরির আঞ্চলিক ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, ১৮০০ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এই বাংলোটি তৈরি হয়েছিল। প্রথমে এটি ডাক বিভাগের ইউনিট হিসেবে চলত এবং আধিকারিকরা এখানে থাকতেন। যেহেতু ডাক বিভাগের কাজকর্ম চলত, তাই নাম দেওয়া হয় ডাকবাংলো। তবে একটা সময় ডাক বিভাগের কাজকর্ম অন্যত্র স্থানান্তরিত হওয়ায় এই বাংলোয় সেচ দপ্তরের কাজকর্ম শুরু হয়। কথিত আছে, খেজুরিতে যাঁরা ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিতেন, তাঁদের এই বাংলোয় এনে রাখা হতো এবং অত্যাচার করা হতো। ব্রিটিশ শাসকদের ক্রমাগত নির্মম অত্যাচারের বিরুদ্ধে একটা সময় গর্জে উঠেছিলেন খেজুরির মানুষও। ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় এলাকার স্বাধীনতা সংগ্রামীরা খেজুরি থানা সহ অন্যান্য সরকারি অফিসে আক্রমণ করেছিলেন। তখন নানা কারণে এই বাংলোটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তারপরও সেখানে সেচ দপ্তরের কাজকর্ম চলত। কয়েক দশক পরে সেচদপ্তরের যাবতীয় কাজকর্ম কাঁথি শহরে স্থানান্তরিত হয়। বন্ধ হয়ে যায় বাংলোটি। এভাবে চলতে চলতে একটা সময় বাংলোটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। পরিত্যক্ত সেই বাংলোটি ভগ্নদশাপ্রাপ্ত হলেও আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু একটু একটু করে  ধ্বংসের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলোটি। এই বাংলোর সামনে স্থানীয় একটি ক্লাব দুর্গাপুজো করে। পাশে একটি ছোট ঘরে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চলে। ফাঁকা মাঠে স্থানীয় ছেলেরা খেলাধুলা করেন। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দা শক্তিপদ পাল বলেন, আমরা চাই, এই বাংলোটি সংরক্ষণ করা হোক। নাহলে সবকিছু কালের নিয়মে ধ্বংস হয়ে যাবে। এখনও এখানে সেচদপ্তরের লোকজন আসেন। খেজুরির আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক সুদর্শন সেন বলেন, এই বাংলোর সঙ্গে যেহেতু স্বাধীনতার ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে, তাই এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। আমরা চাই বাংলোটি সংরক্ষণের দাবি জানাচ্ছি। এব্যাপারে বিডিও উদয়শঙ্কর মাইতি বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নেব।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ