Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দাম বাড়লেও গরমে খাটিয়ার চাহিদা বৃদ্ধি মানবাজারে

দাম বাড়লেও গরমে খাটিয়ার চাহিদা বৃদ্ধি মানবাজারে
  • ২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানবাজার: কাঠের তৈরি চার পায়ার খাটিয়া। গ্রাম বাংলার প্রতিটি পরিবারে তার কদর ছিল। কিন্তু বর্তমান দিনে সেই খাটিয়া আর সেভাবে দেখাই যায় না। গরম পড়তেই সেই খাটিয়ার চাহিদা বেড়েছে দ্বিগুণ। ৪০০ টাকার খাটিয়া বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে। মানবাজার শহরের রাস্তার পাশে দূরদূরান্ত থেকে বিক্রেতারা কাঠের খাটিয়ার পসরা সাজিয়ে বসেন। বিক্রেতারা জানান, এসময় বিক্রিও হচ্ছে ভালো।

Advertisement

মানবাজার কৃষক বাজারের কাছে রাস্তার দু’পাশে খাটিয়া বিক্রি করতে আসেন বিক্রেতারা। দূরদূরান্ত থেকে গাড়িতে করে নিয়ে আসেন খাটিয়ার কাঠামো। বাঁকুড়ার ঝিলিমিলি থেকে খাটিয়া বিক্রি করতে এসেছিলেন নির্মল কর। তিনি বলেন, গ্রীষ্মকালেই খাটিয়া বিক্রি করি। এ সময় প্রচুর চাহিদা থাকে। দামও ভালো পাওয়া যায়। এক একটি খাটিয়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। আরেক বিক্রেতা রঞ্জিত গরাই জানান, নিজেরাই বাড়িতে খাটিয়ার কাঠামো তৈরি করি। তারপর গরমের সময় বিভিন্ন হাটে বাজারে তা বিক্রি করে বেড়াই। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে ভালোই বিক্রি বাটা হয়। দামও ভালো পাওয়া যায়।
প্রত্যেক মঙ্গলবার মানবাজার শহরে খাটিয়ার বাজার বসে, ওইদিনে মানবাজারের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষজন আসেন খাটিয়া কিনতে। ক্রেতারা জানান, আগে অনেকে বাড়িতেই মিস্ত্রি দিয়ে খাটিয়া তৈরি করাতেন। কিন্তু এখন আর সেই ঝামেলায় কেউ যান না। হাটে-বাজার থেকে খাটিয়ার কাঠামো কিনে নিয়ে যান। তারপর দড়ি দিয়ে ছাউনি দিয়ে খাটিয়া তৈরি করা হয়। তাঁরা জানান, একটি খাটিয়া কাঠামো কিনে নিয়ে যাওয়ার পর তা দড়ি দিয়ে ছাইতে মোট ১ হাজার টাকার মতো খরচ পড়ে। একবার দড়ি দিয়ে ছাউনি তৈরি করে দিলে তা তিন-চার বছর চলে যায়। মানবাজারের ভ্রমরপুর গ্রামের আনন্দ বাউরী খাটিয়া কিনতে এসেছিলেন, তিনি বলেন, পুরুলিয়ায় খাটিয়ার চাহিদা রয়েছে। বাড়িতে তক্তা, পালঙ্ক থাকলেও খাটিয়া অনেকেই ব্যবহার করেন। খাটিয়া সহজে যেখানে সেখানে নিয়ে যাওয়া যায়। পুকুরপাড়ে, বারান্দায়, গাছ তলে পেতে বিশ্রাম নেওয়া যায়। তবে তিনি জানান, খাটিয়ার দাম আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। আগে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় পাওয়া যেত। এখন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দাম বলছেন বিক্রেতারা। তবে বিক্রেতাদের কথায় বর্তমান দিনে সব জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে কাঠের দামও। তাই বাধ্য হয়ে খাটিয়ার দাম বাড়াতে হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ