Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মগরাহাটে রুপোর জগন্নাথদেবের চাহিদা তুঙ্গে, আসছে বিপুল অর্ডার, কারিগর মহলে খুশির হাওয়া

প্রভু জগন্নাথদেবকে নিয়ে এখন বঙ্গবাসীর আগ্রহ তুঙ্গে।

মগরাহাটে রুপোর জগন্নাথদেবের চাহিদা তুঙ্গে, আসছে বিপুল অর্ডার, কারিগর মহলে খুশির হাওয়া
  • ২৬ মে, ২০২৫ ০৪:০১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: প্রভু জগন্নাথদেবকে নিয়ে এখন বঙ্গবাসীর আগ্রহ তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্বোধন করা দীঘার জগন্নাথ ধাম নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে। তাঁর পথ অনুসরণ করে একাধিক জনপ্রতিনিধিও নিজ নিজ এলাকায় ছোট আকারের জগন্নাথ মন্দির করছেন। এমনকী বেশ কিছু পুজো কমিটি জগন্নাথ মন্দিরকে এবার তাদের থিম হিসেবে ঘোষণাও করেছে। এসবের মধ্যে দিয়েই রুপোর জগন্নাথদেবের মূর্তি বা শো পিসের ভালো চাহিদা তৈরি হয়েছে। ছোট, বড় অথবা মাঝারি- কলকাতা থেকে বিপুল অর্ডার আসছে রুপোর কারিগর ও  শিল্পীদের কাছে। অনেকে সেসব বানিয়ে ফেলেছেন, কোথাও আবার কাজ জোরকদমে চলছে। মগরাহাটের গ্রামগুলিতে এই কাজ নিয়েই এখন ভালো ব্যস্ততা।

Advertisement

মগরাহাট দু’নম্বর ব্লকের ধামুয়া উত্তর, ধামুয়া দক্ষিণ ও হোটর অঞ্চলে প্রায় একশো বছর ধরে বাড়িতে বাড়িতে রুপোর গয়না থেকে শুরু করে নানা ঘর সাজানোর জিনিস তৈরি করা হয়। এই রুপোর কারিগরদের নিয়ে সেখানে একটি ক্লাস্টার তৈরি হয়েছে। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পদপ্তর থেকে তাঁদের অনেক সাহায্যও করা হয়েছে। কলকাতার মহাজনদের থেকে অর্ডার নিয়ে এখানকার শিল্পীরা বিভিন্ন রকমের ঘর সাজানোর জিনিস তৈরি করছেন। তার মধ্যে এবার প্রভু জগন্নাথদেবের অর্ডার যেভাবে এসেছে, তা অভূতপূর্ব বলেই দাবি করেছেন কারিগররা। উত্তর ধামুয়ার মৌখালি গ্রামের রুপো শিল্পী দিলীপ কর বলেন, মাসখানেক আগেই জগন্নাথদেবের বিভিন্ন ধরনের মূর্তি তৈরি করার অর্ডার এসেছে। সব মিলিয়ে সেগুলি তৈরি করতে ১২ কেজির মতো রুপো লাগবে। কাজ অনেকটাই শেষ। নিমাই প্রামাণিক নামে আরও এক রুপোর শিল্পী বলেন, তাঁর কাছে কুড়ি কেজি রুপোর জগন্নাথদেবের নানা ধরনের মূর্তি ও শোপিস তৈরির অর্ডার দেওয়া হয়েছে। আরও এক কারিগর শ্রীমন্ত কর জানিয়েছেন, তিনি প্রায় ২৫ কেজি রুপো দিয়ে জগন্নাথদেবের নানা ধরনের মূর্তি বানিয়েছেন।
গত বছর পর্যন্ত জগন্নাথদেব নিয়ে এত আগ্রহ বা চাহিদা বাজারে ছিল না বলেই দাবি শিল্পীদের। এবছরের চাহিদা দেখে তারাও অবাক। তবে এই রুপোর শিল্প নিয়ে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের কেউ ৬০ পেরিয়েছেন, কেউ অত্যন্ত প্রবীণ। তাঁদের প্রত্যেকেরই আক্ষেপ, এই পেশায় নতুন প্রজন্ম সেভাবে আসছে না। ফলে ভবিষ্যতে এই শিল্প আদৌ থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। দি মগরাহাট সিলভার ফিলিগ্রি ক্লাস্টার ডেভেলপমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোঅপারেটিভ সোসাইটির চেয়ারম্যান তাপস মণ্ডল বলেন, এই শিল্প অনেক পুরানো। অনেক পরিবার এই কাজ করে। গ্রামে পুলিস ফাঁড়ির ব্যবস্থা, ক্লাস্টারের কাছে ব্যাঙ্ক ও এটিএম স্থাপন করা সহ একাধিক দাবি রয়েছে তাঁদের।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ