Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নতুন সরকারের কাছে রাজ্য কর্মীদের ডিএ বৃদ্ধি সংক্রান্ত স্থায়ী নির্দেশনামা জারির দাবি

নতুন সরকারের কাছে রাজ্য কর্মীদের ডিএ বৃদ্ধির স্থায়ী নির্দেশনামা জারির দাবি উঠেছে। কর্মী সংগঠনগুলির আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে বিস্তারিত পড়ুন।

নতুন সরকারের কাছে রাজ্য কর্মীদের ডিএ বৃদ্ধি সংক্রান্ত স্থায়ী নির্দেশনামা জারির দাবি
  • ৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বামফ্রন্ট জমানা থেকে অনেক কর্মী সংগঠন রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধির স্থায়ী নির্দেশনামা জারি করে রাখার দাবি জানিয়ে এসেছে। কিন্তু বামফ্রন্ট বা তৃণমূল কোনো সরকারই এই ন্যায্য দাবি মানেনি। রাজ্য কর্মীদের ডিএ বৃদ্ধির স্থায়ী নির্দেশনামা জারির দাবি উঠল নতুন সরকারের কাছেও। কারণ দেশের অনেক রাজ্যে স্থায়ী নির্দেশনামা থাকার ফলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে সমতা রেখে সেখানেও রাজ্য কর্মীদের ডিএ বেড়ে যায় যথারীতি। সর্বভারতীয় উপভোক্তা মূল্যসূচক অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিবছর দুবার কর্মীদের ডিএ বৃদ্ধি করে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বাম আমল থেকে তা না-হওয়ার কারণে ডিএ বকেয়া রয়ে যায় বিপুল পরিমাণে। 

Advertisement

সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে কর্মী সংগঠনের তরফে ডিএর স্থায়ী নির্দেশিকা জারি করার কথা বলা হয়। যদিও জানা গিয়েছে, সরকারি তরফে এই ব্যাপারে কোনো নির্দিষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের ভিত্তিতে থাকা বকেয়া ডিএর ব্যাপারে ২২ জুন যে রাজ্য বাজেট পেশ হবে সেখানে সুখবর থাকবে। এখন ৪২ শতাংশ ডিএ বকেয়া আছে। 
বৈঠকে উপস্থিত কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা আশা করছেন, প্রথম দফায় বকেয়া ডিএর অন্তত অর্ধেক মিটিয়ে দেওয়া হবে। সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করে তার সুপারিশ আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে দেওয়া হবে বলে বৈঠকে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেক্ষেত্রে পুরো বকেয়া ডিএ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে ফেডারেশন নেতা আশা করছেন।
এত বেশি বকেয়া ডিএ মেটাতে রাজ্য সরকারের উপর বিপুল আর্থিক চাপ পড়বে। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য বৈঠকে বলেছেন, আগামী দিনে সরকারের রাজস্ব আয় অনেক বৃদ্ধি হবে। ফলে তাঁরা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন। ২০১৯ সালে একসঙ্গে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ মিটিয়ে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করা হয়েছিল।
সরকারি কর্মী ও পেনশন প্রাপকদের সংগঠনগুলির বক্তব্য, ডিএর স্থায়ী নির্দেশনামা থাকলে সরকারের উপর একসঙ্গে এতটা আর্থিক চাপ পড়ত না। কিন্তু এই ব্যবস্থা রাজ্যে বাম আমল থেকে চলে আসছে।  স্থায়ী নির্দেশনামা না-থাকলে পরবর্তীকালেও এভাবে বিপুল বকেয়া ডিএ জমে যেতে পারে।
মলয়বাবু জানান, বৈঠকে উপস্থিত এক পদস্থ সরকারি কর্তাকে তিনি ‘ইনফরমালি’ বলে এসেছেন সর্বভারতীয় মূল্যসূচক অনুযায়ী ডিএর দাবি থেকে তাঁরা সরছেন না। এটা না-হলে আগামী দিনে ফের আইনি লড়াই হবে।
জাতীয়তাবাদী পেনশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মনোজ চক্রবর্তী বলেছেন, বাম সরকার ডিএর স্থায়ী নির্দেশিকা করে দিলে এই সমস্যা থাকতই না। এখন ত্রিপুরাসহ কয়েকটিমাত্র রাজ্য বাদ দিলে বাকি সর্বত্র কেন্দ্রীয় হারে দ্রুতই ডিএ দেওয়া হয়। ত্রিপুরা এখন ৪১ শতাংশ ডিএ দিচ্ছে। সেখানে পশ্চিমবঙ্গে তা মাত্র ১৮ শতাংশ।

সম্পর্কিত সংবাদ