Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাকা রাস্তার দাবি, নানুরের কসবা পঞ্চায়েতে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ

পাকা রাস্তার দাবি, নানুরের কসবা পঞ্চায়েতে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ
  • ১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: প্রায় দুই দশক ধরে কেবল আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতিই মিলেছে। কিন্তু, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। মেলেনি পাকা রাস্তা। এমনই ছবি নানুর বিধানসভার কসবা পঞ্চায়েতের দামোদরপুর গ্রামের নামোপাড়া এলাকায়। অবশেষে সোমবার পাকা রাস্তার দাবিতে কসবা পঞ্চায়েত কার্যালয়ের দরজায় তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার প্রায় ৬০টি পরিবারের মানুষজন। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচন আসে আর যায়। এলাকায় রাস্তা, পথবাতি প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি এখনও অমিল। তাই ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় এদিন পঞ্চায়েতে তালা ঝোলানো হয়েছে। দ্রুত পাকা রাস্তা করা না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গ্রামবাসীরা।

Advertisement

বোলপুর-শ্রীনিকেতন ব্লকের অধীনস্ত কসবা পঞ্চায়েত নানুর বিধানসভার অন্তর্গত। অথচ, এলাকার উন্নয়নের বিষয়টি পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, ব্লক, কিংবা বিধানসভা, কারও নজরে নেই। সেই কারণেই বিগত ২০ বছর ধরে কসবা গ্রামের অধিকাংশ রাস্তা এখনও কাঁচা থেকে গিয়েছে বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দা রাসেশ্বরী রায়, সুনিতা টুডু অভিযোগের সুরে বলেন, বিয়ের পর থেকে ২০ বছরের বেশি সময় ধরে এখানে বসবাস করছি। কিন্তু, আজও পাকা রাস্তা দেখার সৌভাগ্য হল না। প্রতি বর্ষায় কাদায় ভরে গিয়ে রাস্তাটি একেবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ ওই রাস্তায় কাদায় পা পিছলে, সাইকেল থেকে পড়ে জখম হচ্ছেন। গ্রীষ্মে কোনওরকমে চলাফেরা করা গেলেও সামান্য বৃষ্টিতেই চরম সমস্যায় পড়তে হয়। বারবার পঞ্চায়েতে জানিয়ে, জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হয়েও আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলেনি।
আর এক বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী লক্ষ্মীরাম মাড্ডি বলেন, বাচ্চাদের স্কুলে যেতে, অসুস্থদের হাসপাতালে পৌঁছতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এতদিন চুপচাপ সহ্য করলেও আর ধৈর্য ধরতে পারছি না। তাই শেষমেশ আমরা পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছি। এরপরও রাস্তা তৈরি না হলে গ্রামে বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে।
কসবা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আকাশ শেখ বলেন, গ্রামবাসীদের সমস্যার কথা আমরা শুনেছি। ইতিমধ্যেই বিষয়টি জেলা পরিষদকে জানানো হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি রাস্তার কাজ শুরু হবে। তবে এই বর্ষায় ভোগান্তি কমাতে কয়েকদিনের মধ্যেই পাথর-গুঁড়ি ছড়িয়ে দেওয়া হবে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ বলেন, এভাবে তালা ঝুলিয়ে পঞ্চায়েত বন্ধ করা বাঞ্ছনীয় নয়। বীরভূম জেলায় এখন কাঁচা রাস্তা নেই বললেই চলে। যদি গ্রামবাসীরা লিখিত আকারে আবেদন করেন, আমরা দ্রুত সেই রাস্তা পাকা করার উদ্যোগ নেব।
                                 • নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ