Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিধি ভেঙে অরিজিনাল নথি দাবি! মিলছে না রসিদ, ভূরি ভূরি অভিযোগে বিদ্ধ কমিশন

নিত্যনতুন ফরমান দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তার জেরেই এসআইআরের শুনানিতে চূড়ান্ত হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে ভোটারদের।

বিধি ভেঙে অরিজিনাল নথি দাবি! মিলছে না রসিদ, ভূরি ভূরি অভিযোগে বিদ্ধ কমিশন
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:০১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিত্যনতুন ফরমান দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তার জেরেই এসআইআরের শুনানিতে চূড়ান্ত হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে ভোটারদের। এবার বিধি ভেঙে ভোটারদের কাছ থেকে নথির অরিজিনাল কপি চাওয়ার অভিযোগ উঠল রাজ্যের একাধিক জেলায়। এমনকি দীর্ঘ সময় ধরে তা আটকেও রাখা হচ্ছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে অন্য দিন এসে তা নিয়ে যেতে বলছেন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক তথা এইআরওরা। আর সেজন্য কোনও অ্যাকনলেজমেন্ট কিংবা প্রাপ্তি স্বীকারের রসিদ পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। বিশেষত সংখ্যালঘু ও সীমান্তবর্তী এলাকায় অরিজিনাল নথি চাওয়ার ভূরি ভূরি অভিযোগ করছেন ভোটাররা। কিন্তু কোন এক্তিয়ারে তা দেখানোর দাবি করা হচ্ছে? সেই অরিজিনাল নথি আটকেই বা রাখা হচ্ছে কেন? উত্তর নেই কমিশনের কাছে। উপরন্তু, নিজেদের ভুলের দায় আম জনতার উপরই চাপাচ্ছে তারা। যাঁদের থেকে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড নেওয়া হয়েছিল, তাঁদের ফের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে। এই ভোটারদের আরও একবার শুনানিতে ডাকা হবে, নাকি বিএলও মারফত নথি নেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত এদিন রাত পর্যন্ত নিতে পারেনি কমিশন।

Advertisement

২০০২ সালের তালিকায় নিজের বা আত্মীয়ের নাম না থাকা নো-ম্যাপড ভোটারদের শুনানি চলছে রাজ্যজুড়ে। পাশাপাশি সন্দেহজনক ভোটারদেরও ডেকে পাঠানো হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, শুনানিতে উপস্থিত হয়ে কমিশন স্বীকৃত ১৩টি নথির একটি জমা দেবেন সংশ্লিষ্ট ভোটার। অরিজিনাল কপির সঙ্গে সেটি মিলিয়ে দেখবেন শুনানির দায়িত্বে থাকা কমিশনের আধিকারিক। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। অভিযোগ, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদহের মতো সীমান্তবর্তী সংখ্যালঘু প্রভাবিত জেলায় শুনানি পর্বে ভোটারদের নথির অরিজিনাল কপি জমা দিতে বলা হচ্ছে। এইআরওরা সাফ জানাচ্ছেন, ‘নথির ফোটোকপি চলবে না। ভেরিফিকেশনের জন্য অরিজিনাল নথিই জমা দিতে হবে।’ এরপর ভেরিফিকেশনের নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেই নথি আটকে রাখছেন তাঁরা। দীর্ঘক্ষণ পর তা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আবার নির্ধারিত শুনানির দিন ভেরিফিকেশন শেষ হচ্ছে না। অভিযোগ, ভোটারদের অন্য দিন এসে ওই অরিজিনাল নথি নিয়ে যেতে ‘নির্দেশ’ দিচ্ছেন আধিকারিকরা। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার, অরিজিনাল নথি জমা নেওয়ার পর সেই সংক্রান্ত কোনও রসিদও দেওয়া হচ্ছে না।

কিন্তু কোন আইনে বা কার নির্দেশে এই কাজ? সদুত্তর দিতে পারছেন না এইআরওরা। আসলে আইন অনুযায়ী, ভোটারের অরিজিনাল নথি জমা নেওয়ার কোনও এক্তিয়ার তাঁদের নেই। কোনওভাবেই তা করা যায় না বলে জানাচ্ছেন ইআরওরা। তা সত্ত্বেও কারও অদৃশ্য নির্দেশে স্রেফ ভোটারদের হয়রান করতেই এমনটা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

এর মধ্যেই এবার সূত্রের খবর, শুনানির দায়িত্বে থাকা যে আধিকারিকরা নথি হিসাবে অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করেছেন, তাঁদের শো-কজ করতে চলেছে কমিশন। আসলে এই ইস্যুতে সমালোচনার মুখে পড়ে অনেকটাই ব্যাকফুটে কমিশন। তাই মানুষের হয়রানির দায় কার্যত আধিকারিকদের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। যদিও কমিশনের ব্যাখ্যা, গত ২৭ অক্টোবর এসআইআর সংক্রান্ত যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল, তাতে গ্রহণযোগ্য নথি হিসাবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিটের উল্লেখ নেই। তাহলে কেন শুনানিতে এই নথি গ্রহণ করা হল, তা জানতেই শোকজের সিদ্ধান্ত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ