Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গাড়ির চোরাবাজারে পুরানো অ্যাম্বাসাডরের চেসিসের চাহিদা তুঙ্গে, বিক্রি ২৫ হাজারেও!

ভবানীপুরে তিনটি। আমহার্স্ট স্ট্রিটে দু’টি। টালিগঞ্জে একটি। আচমকা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে চুরি যাচ্ছে একের পর এক হলুদ ট্যাক্সি বা অ্যাম্বাসাডর।

গাড়ির চোরাবাজারে পুরানো অ্যাম্বাসাডরের চেসিসের চাহিদা তুঙ্গে, বিক্রি ২৫ হাজারেও!
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভবানীপুরে তিনটি। আমহার্স্ট স্ট্রিটে দু’টি। টালিগঞ্জে একটি। আচমকা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে চুরি যাচ্ছে একের পর এক হলুদ ট্যাক্সি বা অ্যাম্বাসাডর। শহরে থেকে ৬টি ট্যাক্সি চুরির অভিযোগ সামনে এসেছে। একাধিক অভিযুক্তকে পাকড়াও করেছেন তদন্তকারীরা। কিন্তু হঠাৎঅ্যম্বাসাডর চুরির প্রবণতা বাড়ল কেন? ধৃতদের জেরায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে লালবাজার। শহরে চোরাই গাড়ি কেনাবেচার বাজারে কোনও এক অজানা কারণে আচমকা বেড়ে গিয়েছে পুরোনো অ্যাম্বাসাডরের চেসিসের চাহিদা। শুধুমাত্র চেসিসের জন্য চোরাই গাড়ির ক্রেতারা দিচ্ছেন মোটা অর্থ। চেসিস প্রতি ২৫ হাজার টাকা! গাড়ির অন্যান্য যন্ত্রাংশের অবস্থা বুঝে আরও রোজগার বাড়ছে গাড়ি হাতানোয় অভিযুক্তদের। 

Advertisement

গতবছর নভেম্বর মাসে চারদিনের ব্যবধানে ভবানীপুর থানা এলাকা থেকে তিনটি ট্যাক্সি চুরির অভিযোগ জমা পড়ে। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে এক যুবককে চিহ্নিত করে পুলিশ। দেখা যায়, ‘মাস্টার-কি’ দিয়ে একের পর এক ট্যাক্সি চুরি করছে মুখ ঢাকা এক যুবক। সেই যুবককে গ্রেফতার করে ভবানীপুর থানা। ধৃতের নাম রাজকুমার সর্দার। পরবর্তী তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, টালিগঞ্জের একটি ট্যাক্সি চুরির ঘটনায়ও অভিযুক্ত সে। ট্যাক্সি চুরি করে কী করত রাজকুমার?পুলিশের প্রশ্নের জবাবে ধৃত জানায়, মল্লিকবাজারে গাড়ির চোরাবাজারে এর যন্ত্রাংশ ভালো দামে বিক্রি হয়। গাড়ির যন্ত্রাংশ ভালো থাকলে নম্বরপ্লেট বদলে নতুন রং করে ঝাঁ চকচকে গাড়ি ফের বিক্রি করে দেওয়া হয়। প্রতিটি অ্যাম্বাসাডর বিক্রিতে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত রোজগার হয় বলে জানায় ধৃত। 
কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে আমহার্স্ট স্ট্রিট এলাকা থেকে ফের একটি সাদা অ্যাম্বাসাডর ও একটি হলুদ ট্যাক্সি চুরির অভিযোগ ওঠে। থানা তদন্ত চালিয়ে গাড়ি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এই অবস্থায় তদন্তভার নেয় লালবাজারের গাড়ি চুরি দমন শাখা। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তিনজনকে চিহ্নিত করে তারা। গোপন সোর্স কাজে লাগিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ। সূত্রের খবর, তাদের জেরা করেও মিলেছে মল্লিকবাজারের ‘লিংক’। চোরাই গাড়িগুলি সেখানেই বিক্রি করেছিল তিন ‘গুণধর’। দ্রুত নম্বরপ্লেট বদলে দেয় ক্রেতারা। পুলিশের চোখ রাঙানিতে অবশেষে সেই গাড়ি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ধৃতদের জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অ্যাম্বাসাডরের চেসিস অনেক বেশি পোক্ত। শুধু চেসিস বিক্রি করলেই ২৫ হাজার টাকা মিলছে। গাড়ির বাকি যন্ত্রাংশের দাম আলাদাভাবে পাচ্ছেগাড়ি চোররা। কিন্তু, আচমকা অ্যাম্বাসাডরের চেসিসের চাহিদা বাড়ল কেন? এনিয়ে ধৃতরা স্পষ্টভাবে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশকে। তবে চাহিদা বৃদ্ধির তথ্য চোরাই বাজার থেকে দুষ্কৃতীদের কানে পৌঁছে গিয়েছে। কেন চোরাই বাজারে অ্যাম্বাসাডরের চাহিদা বেড়ে গেল, আপাতত সেই রহস্য সমাধানের চেষ্টাই চালাচ্ছে পুলিশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ