আবাস যোজনায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি দাবি!
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: আবাস যোজনায় বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে উপভোক্তার থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে মল্লারপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতের নাম এনায়েত শেখ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার ধৃতকে রামপুরহাট আদালতে তোলা হয়। সরকারি আ‌ইনজীবী মনিরুল হক বলেন, বিচারক ধৃতের তিনদিনের পুলিশ মঞ্জুর করেছেন। 

Advertisement

সূত্রের খবর, মল্লারপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন প্রচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা এনায়েত শেখ দিন কয়েক আগে ওই গ্রামেরই বাসিন্দা মণিরুল শেখকে ফোন করেন। অভিযোগ, মণিরুলের নাম আবাস যোজনার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার পর, তাঁকে সার্ভে ছাড়াই বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৫০০ টাকা দাবি করেন এনায়েত। ভাইরাল হওয়া সেই অডিও কল রেকর্ডিংয়ে (যার সত্যতা ‘বর্তমান’ যাচাই করেনি) শোনা যাচ্ছে, এক ঘনিষ্ঠ সার্ভেয়ারকে এই টাকা দিতে হবে এবং অতীতে তিনি এভাবেই আরও বেশ কয়েকজনের থেকে টাকা নিয়ে ঘর পাইয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করছেন বক্তা। মণিরুলের অভিযোগ, টাকা না দিলে ঘর মিলবে না বলে বলে জানিয়ে দেয় এনায়েত। 
মণিরুল শেখ প্রথমে টাকা দিতে অস্বীকার করেন এবং পরে চেষ্টা করছেন বলে ফোন কেটে দেন। এরপরই বুধবার ওই অডিও ক্লিপ সহ মল্লারপুর থানায় এনায়েত শেখের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। বুধবার রাতেই বাড়ি থেকে এনায়েতকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে রামপুরহাট আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে অভিযুক্ত দাবি করেন, তাঁকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, মণিরুল আমার বন্ধু, মিষ্টি খাওয়ার জন্য ৫০০ টাকা দিলে সে যাতে ঘর পায় সেটা দেখব বলেছিলাম। কিন্তু সে এমন করবে বুঝতে পারিনি। টাকা না দিলে ঘর মিলবে না, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পাশাপাশি, তিনি নিজেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য বলে দাবি করেন।
এই গ্রেপ্তারির ঘটনা সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। এলাকার সিপিএম নেতা তথা দলের জেলা কমিটির সদস্য অরূপ বাগ বলেন, এনায়েত সিপিএমের প্রতীকে গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে জিতলেও পরে সে তৃণমূলে যোগ দেয়। ফলে এনায়েত সিপিএমের সদস্য, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ও তোলাবাজি এবং কাটমানি খাওয়ার জন্যই দলবদল করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের দলের বিন্দুমাত্র যোগ নেই। এই ধরনের প্রলোভন দেখিয়েই তো তৃণমূল আমাদের সদস্যদের নিজেদের দিকে টেনেছে।
অন্যদিকে, এই বিষয়ে এলাকার তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক অভিজিৎ রায় জানান, আইন আইনের পথেই চলবে। পুলিশ পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে এবং ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপটির সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি এর নেপথ্যে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে মল্লারপুর থানার পুলিশ।