সৌমিত্র দাস , কাঁথি: দোরগোড়ায় আলোর উৎসব। অমাবস্যার রাতের নিকষ কালো ভেদ করে আলোর অরুণিমায় ভাসার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে কাঁথিতেও। একটা সময়ে কালীপুজো বা দীপাবলিতে নানা রঙের মোমবাতি বা প্রদীপের টিমটিমে আলোতেই ঘরে বাতি দেওয়ার চল ছিল। চৌকাঠ ও বারান্দা তাতেই ভরে যেত। ক্রমে সেই ধারণা বদলে এল টুনি আলো। কয়েক বছর আগেও ঝোলা তারে ছোট ছোট টুনিই বেশি বিক্রি হতো। টুনির লাল, নীল, সবুজ, হলুদ আলো চোখ ধাঁধিয়ে দিত। এখন সেখানে এলইডি আলোর ছড়াছড়ি। তারাবাতি, এলইডি লন্ঠন, হ্যারিকেন থেকে শুরু করে কত নিত্যনতুন আইটেম যে রয়েছে তার কোনও ইয়ত্তা নেই। নানা রকমের চীনা আলো দখল করেছে দীপাবলির বাজার। কাঁথি শহরের সুপার মার্কেট, নিউ মার্কেট সহ বিভিন্ন মার্কেটের বৈদ্যুতিন সামগ্রীর দোকানে হরেকরকমের আলোর বাহার। ওই দোকানগুলিতে গিয়ে দেখা গেল, থরে থরে আলোর পসরা সাজানো। বহু মানুষ আলোর দোকানগুলিতে ভিড় জমাচ্ছেন। সুপার মার্কেট সংলগ্ন কয়েকটি ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর দোকানে প্রতি বছরই হরেকরকম আলো বিক্রি হয়। বিভিন্ন আকারের টুনি রয়েছে। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন ধরনের এলইডি ‘রাইস’ও। বাহারি ইলেকট্রনিক্স প্রদীপও রয়েছে। ওই সমস্ত আলোর দাম ১০০টাকা থেকে শুরু। দাম রয়েছে সাড়ে তিনশো থেকে চারশো টাকা পর্যন্তও। গত কয়েকদিনে ভালো বিক্রি হয়েছে বলে জানান দোকানদাররা। সুপার মার্কেটে আলো কিনতে এসেছিলেন শহরের আটিলাগড়ির বাসিন্দা বোধিসত্ত্ব জানা। তিনি বলেন, চাহিদামতো আইটেম পেয়ে যাই। তাই প্রতি বছর কমবেশি কিনি। পুরো বাড়ি আলো দিয়ে সাজাই। আলোর বাজার জমে উঠেছে মফস্সল এলাকাতেও। প্রতিটি এলাকা আলোর বিভিন্ন আইটেম সাজিয়ে বসেছেন দোকানদাররা। এবারও দেশপ্রাণ ব্লকের আলাদারপুট বাজারে অস্থায়ী আলোর দোকান সাজিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা চন্দন দাস। তাঁর দোকানে অন্তত ২৫রকমের আলোর পসরা রয়েছে। তারা, মোমবাতি, ফুল সহ নানা আকৃতির টুনি রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে ঝরণা আলো, স্টিক লাইট, ঝাড়লন্ঠন থেকে শুরু করে হরেকরকমের এলইডি আলোর পসরা। চন্দন বলেন, প্রতিবছরই আলোর নানা আইটেমের চাহিদা থাকে। বিক্রি কমবেশি হচ্ছে। শেষ পর্যায়ে বিক্রি বেড়েছে।



