সংবাদদাতা, তেহট্ট: পুজোর আর বেশি দেরি নেই। তাই তেহট্টের বাজারে এখন নতুন পোশাকের খোঁজে ক্রেতাদের ভিড়। দোকানে দোকানে শাড়ির সম্ভার সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। কেউ খুঁজছেন সাবেকি শাড়ি, কেউ আবার চাইছেন একটু আধুনিক নকশার। আর এই পুজোর বাজারে সেই চাহিদার মাঝেই নজর কেড়েছে ‘কাট জামদানি’। তেহট্টের একাধিক কাপড়ের দোকানে এই শাড়ির বিক্রি বেশ ভাল বলে ব্যবসায়ীদের দাবি। বিশেষ করে তরুণীদের মধ্যে কাট জামদানি নিয়ে আগ্রহ বেশি।
দাম শুরু হচ্ছে প্রায় ২৬০০ টাকা থেকে। নকশা, কাজ ও কাপড়ের মান অনুযায়ী দাম আরও বাড়ছে। সাধারণ জামদানির তুলনায় কাট জামদানির বিশেষত্ব তার নকশায়। জামদানি শাড়ির উপর বিভিন্ন ধরনের চুমকি ও পুঁথি বসিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বাহারি নকশা। কোথাও ছোট ছোট চুমকির কাজ, কোথাও আবার পুঁথির সঙ্গে চুমকির মেলবন্ধনে তৈরি হচ্ছে আলাদা নকশা। আলো পড়লে সেই কাজ ঝলমল করে ওঠে। ফলে দিনের পাশাপাশি পুজোর সন্ধ্যা বা রাতের অনুষ্ঠানেও এই শাড়ি আলাদা করে নজর কাড়ছে।
তেহট্ট বাজারের একটি কাপড়ের দোকানে দেখা গেল, অন্য শাড়ির পাশাপাশি ক্রেতাদের একাংশ কাট জামদানির নকশা খুঁটিয়ে দেখছেন। পছন্দের রং, নকশা ও কাজ মিলিয়ে শাড়ি বেছে নিচ্ছেন তাঁরা। বিশেষ করে তরুণীরা চুমকি-পুঁথির কাজ করা উজ্জ্বল নকশার শাড়ির দিকেই বেশি ঝুঁকছেন বলে দোকানদারদের বক্তব্য।
তেহট্ট বাজারের এক বস্ত্র ব্যবসায়ী বলেন, পুজোর আগে প্রতি বছরই কোনও না কোনও শাড়ি ক্রেতাদের মধ্যে বেশি জনপ্রিয় হয়। এ বার সেই জায়গাটা নিয়েছে কাট জামদানি। তরুণীদের মধ্যে এই শাড়ির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। চুমকি-পুঁথির কাজের জন্য রাতে আলোয় এই শাড়ির উজ্জ্বলতা ও নকশা আরও সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে। ব্যবসায়ীদের কথায়, পুজোর কেনাকাটায় এখন শুধু শাড়ির দাম বা কাপড়ের মান নয়, নকশা এবং অন্যদের থেকে কিছুটা আলাদা দেখানোর বিষয়টিও ক্রেতাদের পছন্দের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই সাবেকি জামদানির সঙ্গে নতুন ধরনের কাজের মেলবন্ধন ঘটানো কাট জামদানি তরুণীদের কাছে আকর্ষণ তৈরি করেছে।
পুজোর রাতের আলোর মধ্যে চুমকি-পুঁথির ঝিলিক, তার সঙ্গে জামদানির সাবেকি ছোঁয়া—এই দুইয়ের মিশেলেই এ বার তেহট্টের শাড়ির বাজারে নিজের জায়গা করে নিয়েছে কাট জামদানি। ফলে পুজোর কেনাকাটায় নতুন পোশাকের তালিকায় এই শাড়ির নাম এখন বেশ উপরের দিকেই।