সংবাদদাতা, কাঁথি: খেজুরির নিজকসবার হিজলি মসনদ-ই-আলা এলাকার পর্যটনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। রসুলপুর নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় প্রায় ৫০০বছরের পুরনো মসনদ-ই-আলা মাজার রয়েছে। এই মাজারকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে পর্যটনকেন্দ্র। এখানেই গত শনিবার বিরাট জলসা ও ধর্মীয় সভা হয়েছে। জলসা খেজুরি তথা পূর্ব মেদিনীপুরের পাশাপাশি রাজ্যের নানা জায়গা থেকে হাজার হাজার মানুষ এসেছিলেন। প্রচুর দোকানপাটও বসে। জলসার জন্য মাজার আলোকমালায় সাজিয়ে তোলা হয়। এই মাজার ও পর্যটনকেন্দ্রের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সরকারি গেস্টহাউস তৈরির দাবি উঠেছে।
খেজুরির বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিক বলেন, আমরা রসুলপুর নদীর উপর সেতু তৈরির জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করির কাছে দরবার করেছি। আশা করছি, আগামী দিনে খেজুরির মানুষের দাবি পূরণ হবে।
খেজুরি-২ ব্লকের নিজকসবা পঞ্চায়েতে মসনদ-ই-আলা মাজার রয়েছে। দীঘা-নন্দকুমার ১১৬বি জাতীয় সড়কে হেঁড়িয়া বিদ্যাপীঠ হয়ে এখানে পৌঁছনো যায়। আবার কাঁথি থেকে পেটুয়াঘাট হয়ে ভেসেলে রসুলপুর নদী পেরিয়েও এখানে আসা যায়। মাজারটি ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের কাছে খুবই পরিচিত। এরাজ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকেও মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ এই মাজারে আসেন। বহু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও মানতপূরণের আশায় এখানে আসেন। মাজার ও পর্যটনকেন্দ্র ঘিরে শতাধিক দোকানপাট বসেছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের উদ্যোগে শৌচাগার, পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুন্দর সৈকত, ঝাউবন ঘেরা এই এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ অনন্যসুন্দর। খেজুরির একমাত্র স্বীকৃত পর্যটনকেন্দ্র মসনদ-ই-আলা। সারাবছরই মাজারে বহু মানুষ আসেন। বিশেষত বড়দিন কিংবা নববর্ষে এই মাজারে মানুষের ভিড় মেলার আকার নেয়। এখানে থাকার সরকারি কোনও ব্যবস্থা নেই। বেসরকারি উদ্যোগে বেশ কিছু গেস্টহাউস গড়ে উঠেছে। অভিযোগ, পর্যটকদের কাছে আর বিকল্প না থাকায় গেস্ট হাউসগুলিতে অতিরিক্ত রুমভাড়া নেওয়া হয়। সরকারি গেস্ট হাউস হলে পর্যটকদের সুবিধা হতো।
মসদন-ই-আলায় নদীপথেই বেশি মানুষ আসেন। এতে সময় ও টাকা বেশি লাগে। তাই বহুদিন ধরেই রসুলপুর নদীর উপর সেতুর দাবি রয়েছে। সেতু তৈরি হলে কাঁথি সহ দূরদূরান্ত থেকে মানুষ খুব সহজেই হিজলিতে আসতে পারবেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমননারায়ণ বাকরা বলেন, মসনদ-ই-আলা ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থান ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। এখানে পর্যটনের আরও বিকাশে হিজলিতে আসার ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। সরকারি উদ্যোগে গেস্টহাউস গড়ে তুলতে হবে।