সংবাদদাতা, কাটোয়া: আজ শুক্রবার দোল পূর্ণিমা। সকলেই মেতে উঠবেন রঙিন আবিরে। সেই উপলক্ষ্যে এবার কাটোয়ায় বিক্রি হল প্রচুর ভেষজ আবির। শাকসব্জির রস, বিট, গাজর, পালং শাক দিয়েই ভেষজ আবির তৈরি করছেন অনেকে।
সংবাদদাতা, কাটোয়া: আজ শুক্রবার দোল পূর্ণিমা। সকলেই মেতে উঠবেন রঙিন আবিরে। সেই উপলক্ষ্যে এবার কাটোয়ায় বিক্রি হল প্রচুর ভেষজ আবির। শাকসব্জির রস, বিট, গাজর, পালং শাক দিয়েই ভেষজ আবির তৈরি করছেন অনেকে।
হোলিতে বাজারে রাসায়নিক মেশানো রং, আবির প্রতি বছর বিক্রি হয়। তাতে শরীরের ত্বকের ক্ষতি হয়। এছাড়া কেউ শ্বাসকষ্টেও ভোগেন। বার বার ভেষজ আবিরের কথা বলা হলেও তা বাজারগুলিতে আগে ঠিকমতো পাওয়া যেত না। কয়েক বছর ধরে ভেষজ আবিরের চাহিদা বেড়েছে। কাটোয়া শহর জুড়ে এবার দোকানগুলিতে ভেষজ আবিরের চাহিদা ছিল ব্যাপক।
স্টেশন বাজারের ব্যবসায়ী গৌতম বাহাদুর বলেন, প্রতি বছর বালি ও রাসায়নিক মেশানো আবিরই বেশি বিক্রি করি। এবার ভেষজ আবিরের বিক্রি সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে। আসলে এই আবির শরীরের কোনও ক্ষতি করে না। আরেক ব্যবসায়ী জানান, আমার দোকানে এবার কয়েক বস্তা ভেষজ আবির বিক্রি হয়েছে। শহরে অনেকেই আবার বাড়িতে বসে তা তৈরি করছেন।
বাড়িতে বসে যাঁরা ভেসজ আবির তৈরি করছেন, তাঁদের অনেকে অনলাইনে বিক্রিও করছেন। কেকের কালার, সবুজ সব্জি, কাঁচা হলুদ, পালং শাক, ধনে পাতা, বিট, গাজর, কর্নফ্লাওয়ার, অ্যারারুট, গোলাপ জল এসব দিয়েই ভেষজ আবির তৈরি করছেন তাঁরা। সেসব আবির ১০ থেকে ২০ টাকা প্যাকেট তৈরি করে বিক্রি করছেন।
সুদেবী দত্ত নামে এক পড়ুয়া বলেন, আগে আমরা বাজার থেকে রাসায়নিক আবির কিনতাম। তাতে আমার মায়ের খুব শ্বাসকষ্ট হতো। তারপর ইউটিউব দেখে শাকসব্জরে রং ব্যবহার করে ভেষজ আবির তৈরি করা শিখেছি। তারপর বাড়ি থেকেই অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করছি। ভালোই চাহিদা রয়েছে দেখছি। এখান থেকে যা আয় হচ্ছে, তা দিয়ে নিজের পড়াশুনার খরচ কিছুটা হলেও তো উঠবে।
কাটোয়ার বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলছেন, ভেষজ আবিরের দাম একটু বেশি হয়। তুলনামূলকভাবে অন্য আবির কম দামে পাওয়া যায়। খরিদ্দার কম দামে রং কিনতে বেশি পছন্দ করেন। তাই আগে ভেষজ আবির তুলনামূলকভাবে আগে কম বিক্রি হতো। এখন মানুষ সচেতন হচ্ছেন, তাই কয়েক বছর ধরে ভেষজ আবিরের বিক্রি বেড়েছে।